পাবনায় মঞ্চস্থ্য হলো উৎপল দত্তের মুক্তিযুদ্ধের নাটক ঠিকানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : পাবনা বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্রের মঞ্চে মঞ্চস্থ্য হলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ঘটনা নিয়ে লেখা অন্যতম নাটক ঠিকানা। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের ভারত সীমান্তবর্তী তারাগঞ্জ শিল্প এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মুক্তিকামী বাঙালীদের উপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে গল্পটি নাট্যরুপ দিয়েছেন ভারতের বিখ্যাত নাট্য নির্মাতা লেখক মঞ্চ অভিনেতা উৎপল দত্ত। ৬মার্চ শুক্রবার সন্ধ্যায় পাবনার বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্রের মঞ্চে নাটকটির ১৫তম প্রর্দশনী হয়েছে। ঢাকার অন্যতম নাট্য সংগঠন লোকনাট্য দল তাদের ২৮তম প্রযোজনা ছিলো নাটকটির।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালীর আত্মত্যাগের অন্যতম উপাখ্যান এই নাটকটি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের বিভিষিকাময় সেই সময়ের ঘটনার খন্ড চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নাটকটিতে মূল চরিত্র করেছেন রাশিদা খাতুন নামে বয়স্ক এক নারী সাহসী যোদ্ধা। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন লোকনাট্য দলের প্রবীন নির্দেশক ড. প্রণবান্ত চক্রবর্তী। দুইঘন্টা সময়ের এই নাটকটিতে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকহানাদার বাহিনী মুক্তিকামী বাঙালীদের উপর যে নির্মম নির্যাতন অত্যাচার করেছে সেটি তুলে ধরা হয়েছে নাটকটিতে। ১৯৭১ সালে ২২ থেকে ২৫ এপ্রিলের সময়কালে বাংলাদেশের কোন একটি জায়গাতে বাঙালীরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরিকল্পনা নস্যাত করে দেয়া বাঙালী গেরিলারা। ১৯৭১ সালের সেই সময়ে ঘটনা নিয়ে ২ আগষ্ট উৎপল দত্ত নিজে নির্দেশনা ও অভিনয় করে কোলকাতার প্রথম নাটকটি মঞ্চায়ন করেন।

১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ ভয়াল কালরাতের অন্ধকারে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী স্বাধীনতাকামী নিরস্ত্র বাঙালীর ওপর বর্বর হামলা চালিয়ে গণহত্যা চালায়। আর সেই পাকিস্তানী অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলো ছাত্র-যুবক,কৃষক, শ্রমিকসহ আপামর জননতা। এই নাটকটিত মূল চরিত্রে ছিলো রাশিদা নামে একজন বয়স্ক নারী। এই রাশিদার সাথে যোগাযোগ ছিলো ওই শিল্প অঞ্চলের বাঙালী গেরিলাদের। মূলত রাশিদা হোটেলের কর্মচারী হলেও সে মুক্তিযদ্ধোদের জন্য তথ্য আদান প্রদান করে থাকতেন তিনি।

নাটকের মূল ঘটনার সূত্রপাত হয় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর জন্য গোলাবারুদভর্তি একটি ট্রেন তারাগঞ্চ নামক স্টেশনে এসে পৌছায়। ট্রেনটি যাবে জামালপুর জেলায়। আর তারাগঞ্চ স্টেশনে ট্রেনটিকে বোমামেরে উড়িয়ে দিতে পরিকল্পগ্রহন করে বাঙালী গেরিলারা। আর সেই জন্য চাই ডিনামাইন্ড আর সেটি পাওয়া যাবে মির্জাপুর নামক একটি ঠিকানায়। আর সেই ঠিকানাটি রশিদার কাছে আসবে লোকমারফত যা গেরিলাদের সংগ্রহ করবেন তিনি।

পাকিস্তানী সেনা সদস্য হত্যার অভিযোগে সেই সময়ে দায়িত্বে থাকা কর্নেল ওয়ালী উল্লাহর নির্দেশে হত্যার অভিযোগ এনে গ্রেফতার করা হয় চায়ের দোকানে উপস্থিত চারজন নিরিহ বাঙালী ও দোকানের মালিক রাশিদাকে। তাদের উপর চলে নির্মম অত্যাচার নির্যাতন। শত নির্যাতন আর অত্যাচারের পরেও মাথানত করেনি রাশিদা। সেদিনের ঘটনায় মদ্যপ পাকিস্তানী সেনাসদস্য পানিতে ডুবে মাড়া গেলেও তাকে দেয়াহয় বীরের ক্ষেতাব।

১৯৭১ সালে ২ শে এপ্রিল ভোররাতে রাশীদাসহ ওই পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানী সেনা সদস্যরা। শত অত্যাচার নির্যাতনেও রাশিদার মনবল ভাঙতে পারেনি তারা। কৌশলে মির্জাপুরের গোপন ঠিকানার তথ্য পৌছে দিয়ে ছিলেন গেরিলাদের কাছে। রাশেদাকে হত্যা সাথে সাথে গেরিলারা ওই ট্রেনটিতে বিস্ফোরন ঘটায়। মৃত্যুর আগে বিস্ফোরনের শব্দে উদভাসিত হয়ে উঠে রাশিদা খাতুনের মুখ। মৃত্যুর আগে তিব্রকন্ঠে উচ্চারিত হয় জয় বাংলা জয় বাংলা। নতুন প্রজেন্মর কাছে মুক্তিযুদ্ধের এই বার্তা পৌছে দেয়ার জন্য নাটকটি দেশের ৬৪টি জেলা শহরে প্রর্দশনীর পরিকল্প নিয়েছেন দলটি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *