পাবনায় স্ত্রী-কন্যাসহ ব্যাংক কর্মকর্তার খুনের রহস্য এখনও অজানা

পিপ (পাবনা) : পাবনার চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় এখনও কোন ক্লু বের করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ ধারণা করছে এটি কোন ডাকাতির ঘটনা নয়,সম্পত্তি নিয়েই বিরোধে ট্রিপল মার্ডারের ঘঁনা ঘটতে পারে।

এদিকে পাবনার অবসরপ্রাপ্ত এক ব্যাংক কর্মকর্তা, তার স্ত্রী ও পালিত মেয়েকে কুপিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন রাব্বি নামে পালিত ছেলেকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ ছাড়া আরও সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদেরকেও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে এটি কোন ডাকাতির ঘটনা নয়,সম্পত্তি নিয়েই বিরোধে এই হত্যাকান্ডটি হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল কাদের বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সুত্র জানায়, পাবনা শহরের দিলালপুর এলাকার ফায়ার সাভিস ষ্টেশনের পশ্চিম পাশের একটি পুরোনো দোতলা বাড়ির নিচ তলায় সপরিবারে ভাড়া থাকতেন অবসর প্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার। বাড়িটিতে অন্য কেউ বসবাস করতেন না। তার গ্রামের বাড়ি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর ইউনিয়নের পাইকরহাটি গ্রামে হলেও তিনি তার পালিত সন্তানদের পড়ালেখার কারণে শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। শহরের শালগাড়িয়া মহল্লায় তার একটা বাড়ি আছে। সে বাড়িটি ভাড়া দেয়া আছে। ঐ এলাকার সাবেক কমিশনার ফিরোজ হোসেনের ভায়রার বাড়ীতে স্বপরিবারে ভাড়া থাকতেন তিনি। ওই বাসাতেই দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন স্ত্রী মেয়েসহ তিনি।

শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ প্রতিবেশীদের নিকট থেকে খবর পেয়ে শহরের দিলালপুরের একটি বাড়ির মূল ফটক ভেঙে এই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলো রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার (৬৪), তার স্ত্রী ছুম্মা খাতুন (৫৮) এবং মেয়ে সানজিদা খাতুন জয়া (১৪)। তাদেরকে কুপিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার পর বাড়িতে লুটপাট চালিয়েছে দূর্বত্তরা
ডিবি পুলিশ এই ঘটনায় সন্দেহভাজন রাব্বি নামের পালিত ছেলেকে আটক করেছে।

নিহতের ভাই মনিরুজ্জামান বলেন, তারা ব্যাক্তি জীবনে নিঃসন্তান ছিলেন। পরে সানজিদাকে দত্তক নিয়েছিলেন। আমার ভাই খুবই শান্ত প্রকতির লোক ছিলেন, কারোর সাথে ঝামেলায় যেতেন না। তাকে কারা এভাবে হত্যা করেছে, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের শাস্তিও দাবী করেন তিনি।

নিহতের বোন নাজমা খাতুন বলেন, আমার ভাইয়ের শহরের শালগাড়িয়া মহল্লায় একটি নিজস্ব বাড়ি আছে। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দিলালপুরে ভাড়া বাড়িতেই বসবাস করতেন। সম্পত্তির কারনে কেউ তাদের হত্যা করেছে বলেও তার বোনের ধারনা।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কমকতা (ওসি) নাসিম উদ্দিন জানান, ধারণা করা হচ্ছে ৩/৪ দিন আগে দুর্বৃত্তরা তিনজনকে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। মরদেহে কিছুটা পচন ধরেছে এবং গন্ধ বের হয়েছে। তবে তারা যেখানে বসবাস করতেন সেখানে কক্ষগুলো তছনছ করা এবং আলমিরা ভাঙা পাওয়া গেছে। তবে গোয়েন্দা পুলিশ এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে রাব্বি নামের একজনকে আটক করেছেন। রাব্বিকেও নিহত আব্দুল জব্বার এক সময় দত্তক নিয়েছিলেন বলেও জানান ওসি। সম্প্রতি কয়েক বছর রাব্বি বখে যাওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার কথাও জানা গেছে। মামলাটি জেলা গোয়েন্দা বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। খুব শিঘ্্রই হত্যাকান্ডের ক্লু উদঘাটন হবে।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, কী কারণে এবং কারা এ হত্যাকান্ডটি করেছেন তা তাৎক্ষণিক ভাবে উদঘাটন করা যাচ্ছে না। পুলিশ তদন্ত করছেন। তবে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। আমরা যেটুকু নিশ্চিত হতে পেরেছি তা হলো এটি ডাকাতি না। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত আর কিছুই বলেন নাই তিনি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *