পাবনা জেনারেল হাসপাতালে দুদকের অভিযান ৪৯ জন চিকিৎসকের মধ্যে অনুপস্থিত ৩৫ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ৪৯ জন চিকিৎসকের মধ্যে সহকারি পরিচালকসহ ৩৫ জন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। সোমবার সকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি দল হাসপাতালে ঝাটিকা অভিযানে গিয়ে তাদের অনুপস্থিত পায়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সকাল সাড়ে ৮টায় চিকিৎসকরা অফিসে উপস্থিত ছিলেন।
দুদকের পাবনা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে সারাদেশে হাসপাতালে অভিযানের অংশ হিসেবে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে সকাল ৯টায় অভিযান যায় দুদকের একটি দল।
আতিকুর রহমান জানান, হাসপাতালের নিবন্ধন অনুযায়ী আমরা জানতে পেরেছি, এই হাসপাতালে মোট ৪৯ জন চিকিৎসক নিযুক্ত আছে। অভিযানের সময় আমরা মাত্র ১৪ জন চিকিৎসককে উপস্থিত পেয়েছি এবং হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. রঞ্জন কুমার দত্ত সহ ৩৫ জন চিকিৎসক অনুপস্থিত ছিলেন। তবে ঘন্টাব্যাপী অভিযান পরিচালনার সময় সহকারি পরিচালকসহ কয়েকজন চিকিৎসক দেরীতে অফিসে আসেন। কিন্তু তারা দেরীতে অফিসে আসার যথাযথ কারণ দেখাতে পারেননি।
আতিকুর রহমান আরো বলেন, আমরা সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত উপস্থিতির হাজিরা খাতা ও ইলেক্ট্রনিক হাজিরার ফলাফল জব্দ করেছি। আমরা চিকিৎসকদের এই অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠাবো। সদর দপ্তর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. রঞ্জন কুমার দত্ত অনিয়মিত অনুপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তবে তার অর্থ এই নয় যে, চিকিৎসকরা অনুপস্থিত। অনেক সময় চিকিৎসকরা জরুরী রোগী দেখতে ব্যস্ত থাকেন। চিকিৎসকরা প্রায়শই হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে প্রথমেই তারা গুরুতর রোগী দেখতে ছুটে যায়। যার কারণে মাঝে মধ্যে চিকিৎসকরা সময়মতো তাদের সরকারি হাজিরা প্রতিপালন করতে পারেননা। আবার অনেকের ব্যক্তিগত কারণেও দেরী হতে পারে। তার মানে এই নয় যে, তারা অনুপস্থিত।
কেন তিনি সময়মতো অফিসে হাজির হতে পারেননি জানতে চাইলে ডা. রঞ্জন বলেন, অফিস সাড়ে ৮টায় শুরু হলেও ব্যক্তিগত কারণে আজ আমার কিছুটা দেরী হয়ে গেছে। অথচ হাসপাতাল সুত্র দাবি করেছে, সোমবার তিনি নিজেই ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট দেরী করে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে হাসপাতালে গেছেন।
এদিকে, হাসপাতালের একাধিক সুত্র জানায়, ডা. রঞ্জন প্রতিদিনই দেরীতে অফিসে যান এবং নির্ধারিত সময় বেলা ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করেন না। অর্থাৎ তাকে হাসপাতালে ঠিকমতো পাওয়া যায়না। এই চিত্র নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর দলটি আটঘরিয়া ও চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে বেশিরভাগ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। জেলা সিভিল সার্জন অফিসে অফিসিয়াল মিটিং এ উপস্থিত থাকায় কয়েকজন চিকিৎসক হাসপাতালে ছিলেন না বলে জানায় দুদক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *