পাবনা-২ আসনে লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : পাবনা-২ আসনটি সুজানগর উপজেলার একটি পৌরসভা ও দশটি ইউনিয়ন এবং বেড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। আসনটিতে মোট ভোটার রয়েছে ৩ লক্ষ ৭হাজার ৮৯জন। এর মহিলা ভোটার ১লক্ষ ৪৭হাজার ১‘শ ৭জন এবং পুরুষ ভোটার ১লক্ষ ৫৩হাজার ৬‘শ ৮২জন। আসনটিতে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী অংশ নিলেও মূলত লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৪সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে তিনবার আওয়ামী লীগ এবং দুইবার বিএনপি দলীয় প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আজিজুল হক আরজু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ চায় আসনটি ধরে রাখতে আর বিএনপি চায় পুনরুদ্ধার করতে। ইতোমধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুজানগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আহমেদ ফিরোজ কবির এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবিব গণসংযোগ এবং সভাসমাবেশ করে নির্বাচনী মাঠ দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আহমেদ ফিরোজ কবির প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন বলে এলাকার রাজনৈতিক সচেতন মহল জানান। তারা বলছেন আহমেদ ফিরোজ কবির গত ২৫ নভেম্বর আওয়ামী লীগের একক দলীয় প্রার্থী মনোনীত হওয়ার পর থেকে উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা করে নির্বাচনী মাঠে তার অবস্থান বেশ সুদৃঢ় করেছেন।

তাছাড়া তিনি ২০০৯ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর দুর্নীতিকে শতভাগ না করে পাঁচ বছর সততা এবং নিষ্ঠার সাথে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করায় আগে থেকেই নির্বাচনী মাঠে তার বেশ সাড়া রয়েছে।

পক্ষান্তরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী একেএম সেলিম রেজা হাবিব আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ১৪দিন পরে দলের একক প্রার্থী মনোনীত হন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির সংসদীয় কমিটি প্রথমে তিনজন প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেন। সেকারণে কোন প্রার্থীই প্রচার-প্রচারণা মাঠে নামেন না। এরপর দীর্ঘ ১৪দিন পর ওই সেলিম রেজা হাবিবকে দলের একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।

এতে তিনি প্রচার-প্রচারণায় পিছিয়ে পড়েন। তাছাড়া দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও রয়েছে। সেকারণে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে বলে রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তি এবং সাধারণ ভোটাররা জানান।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *