পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে এগিয়ে আ.লীগ, পিছিয়ে বিএনপি

এসএম মোফাজ্জল হোসেন বাবু : পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান থাকলেও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরিন কোন্দল এখানো কাটেনি। কারণ হিসেবে জানা গেছে, বিএনপি নেতা সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার এবার মনোনয়ন না পেয়ে তিনি এবং তার অসুসারিরা বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে এখনো মাঠে নামেননি। তবে শেষ মুহুর্তে বিএনপি ও তার সমমনা দলগুলো একজোট হয়ে মাঠে নামবেন বলে দাবী করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীর নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পোস্টার লাগানো থেকে শুরু করে গণসংযোগে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। আর নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সেই কারণে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন তারা। অপরদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহর থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে বাড়ি বাড়ি ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত তারা।
বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, তাদের নেতাকর্মীদের হামলা-মামলার ভয় দেখিয়ে তাদেরকে গণসংযোগে বাধার সৃষ্টি করছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন স্থানে তারা পোস্টার লাগানোয় বাধা দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, তার গণজোয়ার দেখে নৌকা প্রার্থী পরাজয় জেনে তার দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতিদিন পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং পরাজয় ভেবে ভোট কারচুপির পাঁয়তারা করছেন। সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে তিনি আংকায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেন, ধানের শীষ প্রার্থীর পক্ষে লোক না থাকায় তারা পরাজয় ভেবে তারা নানা কূৎসা রটনা করছেন। সারা দেশে এই সরকারের আমলে যে উন্নয়ন হয়েছে সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আবারও আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করবে।

আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম রতন বলেন, টানা চার চার বারের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এমপি শামসুর রহমান শরীফ। এবারও তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন।

ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক ও সিরাজুল ইসলাম সরদার অনুসারি ফজলুর রহমান বলেন, সাবেক এমপি ও হাবিবুর রহমান হাবিবের মধ্যে মনোমানিল্য থাকার কারণে সিরাজ সরদার এখনো মাঠে নামেননি। তবে শেষ মুহুর্তে সব মনমালিন্য দুর করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করবেন বলে দাবী করেন এই নেতা।
অন্যদিকে আটঘরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাও: আমিরুল ইসলম বলেন, এই আসনটি বিএনপির-জামায়াতের। কারণ হিসেবে তিনি দাবী করেন, এই আসনে এক সময় বিএনপির প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সরদার এমপি নির্বাচিত হন। পরের দুই নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় জয় পায় আওয়ামী লীগ। আর গত সংসদ নির্বাচনে তো বিএনপির সমমনা দল অংশগ্রহনই করেনি। তবে এবার তা ভিন্ন বলে দাবী করেন তিনি। এবার বিএনপির গণজোয়ার সৃষ্ঠি হয়েছে। ভোটররা যদি কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন তাহলে বিপুল ভোটে ধানের শীষ প্রার্থী জয়লাভ করবেন।

পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে মোট প্রার্থী রয়েছেন ৪ জন। এর মধ্যে শামসুর রহমান শরীফ (নৌকা), হাবিবুর রহমান হাবিব (ধানের শীষ), মাওলানা আব্দুল জলিল (হাতপাখা) ও আব্দুর রশিদ শেখ (আম)।

১৯৯১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে পাবনা-৪ আসনে চার বার আওয়ামীলীগ প্রার্থী এবং একবার বিএনপি প্রার্থী জয় লাভ করেন। ১৯৯১ সালে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সরদার (সিরাজ সরদার) আওয়ামীলীগ প্রার্থী ৯০’র এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের তুখোড় ছাত্রনেতা ও ছাত্রলীগের ততকালীণ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিবকে পরাজিত করেন। এরপর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে হাবিবুর রহমান হাবিব যোগ দেন বিএনপিতে। ঐ নির্বাচনে শামসুর রহমান শরিফ আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন বিএনপি প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সরদার। এই জয়ের মধ্য দিয়েই কপাল খুলে যায় শামসুর রহমান শরিফের। পরপর ৪টি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন এবং সর্বশেষ ভূমিমন্ত্রী হন। ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ সালের নির্বাচন পর্যন্ত একক আধিপত্ত্ব রয়েছে শামসুর রহমান শরিফ ডিলুর। তিনি ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি থেকে সিরাজুল ইসলাম সরদার মনোনয়ন পেলে বিদ্রোহী প্রার্থী হয় হাবিব। সেবার হাবিব-সিরাজের দ্বন্দ্বে গোল দিয়ে নির্বাচনের বিজয়ের মালা পড়েন আওয়ামীলীগের শামসুর রহমান শরীফ। তার নিকটতম প্রতিদ্ব্িদ্ব ছিলেন বিএনপি প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সরদার। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচেন শামসুর রহমান শরিফ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বর্তমানে মোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫৪ জন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮০ হাজার ২৮০ এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৭৪ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *