পরমানু শক্তিতে স্থান করে নিতে পারলাম সেটা শান্তির জন-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

রফিকুল ইসলাম সুইট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভিশন ২০২১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম বার্ষিকী এবং বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তীতে রুপপুর পারমানবিক বিদুৎ কেন্দ্রের রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল” স্থাপনএর উদ্বোধন করতে পারলাম এটা একটা গৌরবের বিষয়, আজকের এই দিনটি আমার জন্য গুরুত্বপুর্ণ। আমরা এখন পরমানু শক্তির অংশে স্থান করে নিতে পারলাম সেটা শান্তির জন্য,এটাই বাস্তবতা, এটা অনেক গুরুত্বপুর্ন। পারমানবিক বিদুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদুুৎ গ্রাম পর্যায়ে মানুষের কাছে যাবে। মানুসের আর্থ সামািিজক উন্নতি হবে। তিনি আরো বলেন, ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ করব। ২০৭১ সালে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম সুন্দর দেশ উন্নত দেশ সমৃদ্ধশালী দেশ আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সমপ্ন দেশ হিসেবে স্বাধীনতার শতবর্ষ উৎযাপন করবে। ডেল্টা প্লান করে যাচ্ছি। এই দেশ যাতে পিছিয়ে না পরে। কোন শকুনির থাবা যাতে বাংলাদেশের উপর না পরে। বাংলাদেশে অগ্রগতি অপ্রতিরোধ্য গতিতে যেন এগিয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রী রোববার দুপুর পৌনে ১২টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে পাবনার ঈশ^রদী উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল যন্ত্র রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের কাজের উদ্বোধনকালে এসব বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশে গড়ে তোলা এবং মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের স্বপ্ন ছিল জাতির পিতার। ২৪ বৎসর সংগ্রাম করে স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বৎসর সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিল। পাকিস্তান সরকার পারমানবিক প্রকল্পের জন্য শুধু জায়গা দিয়েছিল অর্থ দিয়েছিল না। পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাথেও পাকিস্তান আমলের বঞ্চনার ইতিহাস জড়িত। ডা. ওয়াজেদ উদ্যোগ এ ব্যাপারে নিয়েছিলেন, ৭৫ জাতির পিতাকে হত্যার পর সেই উদ্যোগ থেমে যায়। জাতির পিতা বেঁচে থাকলে এটা আগেই বাস্তবায়ন হতো। ২১ বৎসর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এ ব্যাপারে উদ্যোগ পুনরায় গ্রহন করি। শিক্ষামন্ত্রী এসএ সাদেক কে আহবায়ক করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেই। ভিয়েনায় আর্ন্তজাতিক আনবিক শক্তি কমিশনের অনেক শর্ত মানতে হয়। জাতিসংঘে পরমানু শক্তি শান্তির জন্য ব্যবহার করব আমরা অস্ত্র বানাবো না এব্যাপারে চুক্তি করি। রাশিয়ার সাথে চুক্তি নিরাপত্তা এবং বর্জ ব্যবস্থাপনা রাশিয়া করবে। এই চুক্তির সময় টক মিষ্টি ঝাল মিশিয়ে অনেক কিছু লেখা ও বলা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের ফলে বিশ্বে পারমাণবিক যুগে বেশ শক্ত অবস্থানে এলাম আমরা। আর সেটি কিন্তু আমরা পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ। উৎপাদিত বিদুৎ দিয়ে মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি হবে। উৎপাদন এবং সঞ্চালনের ব্যবস্থা করে হচ্ছে। একটু বিদুৎ বিএনপি আমলে বৃদ্ধি করা হয় নাই। তিন চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পরিবেশ দুষন যাতে না হয় সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভলগা থেকে পদ্মা নদী ড্রেজিং করতে হয়েছে এর ফলে ব্যবসা বৃদ্ধি পাবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ২ নির্মান করার উদ্রোগ নিয়েছি।
তিনি বলেন, ‘আরেকটি পাওয়ার প্লান্ট আমরা করবো। আমার ইচ্ছা পদ্মার ওপারেই অর্থাৎ দক্ষিণাঞ্চলে করার। আমরা জায়গা খুঁজছি এবং আশা করি, এ ব্যাপারে খুব একটা অসুবিধা হবে না।’
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব জিয়াউল হাসান স্বাগত বক্তৃতা করেন। প্রকল্প পরিচালক ও পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মো. শওকত আকবর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল যন্ত্র রিয়্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের সময় ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হন।
এ সময় পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি, শামসুল হক টুকু এমপি, নুরুজ্জামান বিশ্বাস এমপি, আহমেদ ফিরোজ কবির এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি(ভারপাপ্ত) জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল, পাবনা পৌর মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধানসহ জনপ্রতিনিধি, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, রোসাটমকর্মকর্তা, সাংবাদিক, প্রকল্প কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
রিয়াক্টর ভবনের ভেতর থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ও পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মো. শৌকত আকবর, রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের অনুমতি প্রার্থনা করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দিলে, রিয়াক্টর ভেসেলটি নকশা অনুযায়ী যথাস্থানে স্থাপন করা হয়। ৫ থেকে ৬ মিনিটের মধ্যে এটি স্থাপন শেষ হলে জয় বাংলা, জয় বাংলা শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রিয়াক্টর ভবন থেকে অনুষ্ঠানস্থল।
অনুষ্ঠানে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর একটি ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিজ্ঞানমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, আজ জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিন। পারমাণবিক প্রকল্প বাস্তবায়ণে জাতির পিতা ও তাঁর কন্যার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। রাশিয়া বাংলাদেশের দুখের দিনের বন্ধু। রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের কারণে বিশ্ব সভ্যতায় অনন্য অবস্থায় উন্নীত হলো বাংলাদেশ।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাশিয়া ৯০ শতাংশ দিচ্ছে ঋণ হিসেবে, যা প্রকল্পটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পরবর্তী ২৮ বছরে পরিশোধ করা যাবে। প্রকল্প ব্যয়ের অবশিষ্ট ১০ শতাংশ অর্থ জোগান দেবে বাংলাদেশ। রূপপুর দুটি ইউনিট থেকে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। কেন্দ্রটির সব যন্ত্রপাতি তৈরি, সরবরাহ ও নির্মাণে কাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম।
পরমাণকি বিদ্যুৎকেন্দ্রের যে যন্ত্রে নিউক্লিয়ার ফুয়েল (পারমাণবিক জ্বালানি) বা ইউরেনিয়াম থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, তার মূল কাঠামো হচ্ছে রিয়্যাক্টর। এটিই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রাণ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *