পেঁয়াজ উৎপাদনের জেলা পাবনায় পেঁয়াজের দরে নতুন রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক : পেঁয়াজ উৎপাদনের জেলা পাবনায় পেঁয়াজের দরে নতুন রেকর্ড। জেলার বিভিন্ন বাজারে কেজিতে ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি পৌঁছেছে। এতে বিপাকে সাধারণ মানুষ।
দেশের তিন ভাগের এক ভাগ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় পাবনা জেলায়। পেঁয়াজ উৎপাদনের জেলাতেও এবার পেঁয়াজের দরে নতুন রেকড গড়েছে। পাবনার বিভিন্ন খুচড়া বাজারে কেজি প্রতি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেশি দামে ক্রয় করে বেশী দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
খুচড়া পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, গেল হাটে পাবনার হাজির হাট থেকে পেঁয়াজ কিনেছি ৬ হাজার টাকা মণ আর বিক্রি করেছি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি আর এখন কেনা ৮ হাজার ২শ টাকা থেকে ৮ হাজার ৪শ টাকায়। বিক্রি করছি ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পঁয়াজের দাম প্রতিদিনই বাড়তি। আমরা ক্রয করে নিয়ে আসছি আবার পরে যখন যাচ্ছি তখন আরো বেশি। বাজার এলোমেলো হয়ে গেছে। আমরা ব্যবসা করে শান্তি পাচ্ছি না।
পাইকার পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, কৃষকের ঘরে পেঁয়াজ নাই। সেই কারণে পেঁয়াজ সংকট দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও যা ছিলো ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। পেঁয়াজের এমন লাগমহীন দামে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
ক্রেতা পেয়ার আলী বলেন, বাজারে গত দুই দিন আগেও ছিলো ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি। দুই দিন পরে হঠাৎ করে আজ ২২০ টাকা। বাজারে দরে যে উদ্বোমূখী এটা নিরসন হওয়া দরকার। সাধারণ আমাদের মত ক্রেতাদের নাভিশ^াস হয়ে যাচ্ছে।
টেবুনিয়া বাজারে পেঁয়াজ ক্রয় করতে আসা বাবুল হোসেন বলেন, দুই দিন আগে ছিলো ১৬০ টাকা গতকাল ছিলো ২০০টাকা আর আজ ২২০ টাকা। আমাদের মত মানুষের পেঁয়াজ ক্রয় করা খুবই কঠিন হয়ে গেছে। আমরা কি করব কিনে খেতে হয় তাই কিনতে হচ্ছে )
এ ব্যাপারে পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আজাহার আলী বলেন, পাবনা জেলায় আগাম জাতের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। আর এক সম্পাহের মধ্যে আগাম জাতের (মুড়ি কাটা) পেঁয়াজ কৃষকরা বাজারে তুলবে। এই পেঁয়াজ বাজারে পুরো দমে উঠলেই দাম কমে আসবে বলছেন তিনি।
কৃষি অফিস সূত্র জানায়, পাবনা জেলায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে আগাম জাতের (মুড়ি কাটা) পেঁয়াজ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *