পেঁয়াজ-তেল-চিনিতে শুল্ক স্থগিতে এনবিআরকে চিঠি

অর্থনীতি: বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল ও চিনির ওপর সব ধরনের শুল্ক আপাতত স্থগিত রাখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি সস্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে আয়োজিত সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আমরা চারদিক থেকে চেষ্টা করছি যতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এক মাস বাড়তি দাম থাকার কথা বলা হচ্ছে কিন্তু আমাদের দেশে পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ মজুদ আছে, যা দিয়ে আগামী আড়াই থেকে তিন মাস চলতে পারে। তারপরও আমরা বিভিন্ন রকম শুল্ক প্রত্যাহার করার জন্য এনবিআরকে চিঠি দিয়েছি। বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, চিনি আমদানিতে এসডি ও অগ্রিম শুল্ক রয়েছে। দুটোই প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে। ভোজ্য তেল আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম শুল্ক রয়েছে, এ ক্ষেত্রে অগ্রিম শুল্ক প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে। পেঁয়াজের শুল্ক চার মাসের জন্য প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে। বাকিগুলোর ক্ষেত্রে সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়নি। পেঁয়াজ আমদানিতে পাঁচ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি বলেন, গত বছর চার মাসের জন্য শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এনবিআরের কর্মকর্তাদের ইতিবাচক মনে হয়েছে। আশা করছি এবারও তিন মাসের জন্য শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। পেঁয়াজের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে সচিব বলেন, পেঁয়াজের মূল্য বিশ্লেষণ করে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে শুনেছি। দেখা গেছে, ভারতের বেঙ্গালুরুতে অতি বৃষ্টির কারণে সেখানকার বাজারে দাম বেড়ে গেছে, সেটার প্রভাবে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম ব্যবসায়ীরা বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিছু ভারতের দাম বাড়ার জন্য এবং কিছু দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে চিঠি দিয়েছি। এনবিআরকে শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য বলা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আনার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে আরও দুটি দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে। নভেম্বরের শেষে বাজারে নতুন পেঁয়াজ (মুড়িকাটা) আসবে উল্লেখ করে বাণিজ্য সচিব বলেন, পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজের মজুদ আছে। এই পেঁয়াজ দিয়ে আগামী তিন মাস চলে যাওয়ার কথা। এর বাইরে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে নতুন পেঁয়াজ আসবে। এর আগের একটি মাস হয়তো পেঁয়াজের মূল্য বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে আমাদের চেষ্টা থাকবে যৌক্তিক মূল্য যতটুকু বাড়া দরকার ততটুকুই যেন বাড়ে, এর মধ্যেই যেন সীমাবদ্ধ থাকে। আমরা আশা করছি, পরিস্থিতি এখন যেমন আছে এর চেয়ে আর খারাপ হবে না। তবে এখনকার এই নাজুক পরিস্থিতি হয়তো আগামী এক মাস ধরে চলবে। আইনের ক্ষমতা বলে চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্য সচিব বলেন, তেলের বাজার স্বাভাবিক আছে। তবে চিনির দাম যেহেতু ৪-৫ টাকা কমিয়ে আনা হয়েছিল তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন। বাজারে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় থাকা চাল, মুরগির মাংসসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত না হওয়ায় এসবের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ নেই বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এছাড়া ডাল আমদানিতে কোনো শুল্ক নেই বলেও অন্ষ্ঠুানে জানানো হয়।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *