বাকপ্রতিবন্ধী ‘শিল্পী’ মিতু

খাইরুল ইসলাম বাসিদ ও আফ্রিদী মিঠুন  চাটমোহর থেকে ফিরে : বাকপ্রতিবন্ধী মিতু রানী দাস। কখনও তার শেখা হয়নি অংকন শিক্ষা। দেখে বোঝার উপায় নেই শুধু মাত্র চোখের দেখায় প্রতিনিয়ত এঁকে চলেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়সহ নানা গুণী জনের ছবি। যা দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই। পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধূলাউড়ি ঘোষপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক কুটিশ্বর ও গৃহিনী সুমিত্রা রানী দাস দম্পতির ছোট মেয়ে মিতু। গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় আইসিটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয় মিতু। তবে মঙ্গলবার সেই অকৃতকার্য হওয়া বিষয়ে আবারও পরীক্ষা দেয় সে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উঠোনে বসে আর্ট পেপারে ছবি আঁকছে মিতু। কথা বলার প্রবল আকুতি তার! তার বোঝানোর ক্ষমতা বা দক্ষতা সাধারণ অন্য মেয়েদের চেয়েও বেশি। তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় ছবি দেখে নিজে নিজেই আঁকা শেখে মিতু। সংসারে অভাব থাকলেও মেয়ের এমন আগ্রহ ও প্রতিভা দেখে বাধা হয়ে দাঁড়াননি বাবা-মা। তবে মিতুর একটি ভাতার কার্ডের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে বাবা-মা ধর্ণা দিয়েছেন বহুবার। তবে মেলেনি কোন সহযোগিতা! চার ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট মিতু। বড় বোন রেপা রানী দাসও বাকপ্রতিবন্ধী। অনেক কষ্টে তার বিয়ে দিয়েছেন বাবা-মা। মেজ বোন রিতা মাস্টার্স পাশ করার পর বিয়ে হয়। বড় ভাই রিপন কুমার দাস ঢাকার একটি কলেজে পড়াশোনা করে। দ্রারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত কুটিশ্বর দাস শত কষ্টের মাঝে ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা শিখিয়েছেন।

বাবা কুটিশ্বর ও মা সুমিত্রা রানী দাস এই প্রতিবেদককে বলেন,‘বড় মেয়ের পর ছোট মেয়েও (মিতু) বাকপ্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়ায় খুব ভেঙ্গে পড়েছিলাম। কিন্তু বড় হওয়ার পর তাকে (মিতু) স্কুলে ভর্তি করে দেই। তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় মিতু ছবি দেখে হুবহু আঁকতে শুরু করে। ভেবেছিলাম প্রাইমারি পাশ করলে আর পড়াবো না। কিন্তু মেয়ের প্রবল আগ্রহ দেখে বাধা দেইনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মেয়ের ভাতার কার্ডের জন্য বেশ কয়েকবার চেয়ারম্যানকে বলেছি। সমাজ সেবা অফিসেও গিয়েছি। কিন্তু কোথাও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।’

চাটমোহর শিল্পকলা একাডেমির অংকন শিক্ষক মানিক দাস বলেন, ‘বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর আঁকানো চিত্রকর্ম দেখে আশ্চর্য হয়েছি। এটা ঈশ্বর প্রদত্ত ব্যাপার। না শিখেই মিতুর মধ্যে যে প্রতিভা আছে এরআগে কোথাও দেখিনি। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মিতু অনেকদূর পৌঁছাবে।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমারকে মিতুর ব্যাপারে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর চিত্রকর্ম আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার জন্য ভাতার কার্ড করে দেওয়ার পাশাপাশি, মিতুর সুপ্ত প্রতিভা যেন বিকশিত হয় সে দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসন থেকে নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *