বাঘায় আম্পানের আঘাতে ঝড়ে পড়া আম ৫০ পয়সা কেজি

রাজশাহী : রাজশাহীর বাঘায় আম্পানের আঘাতে ঝড়ে পড়া আম ৫০ পয়সা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তারপরও ক্রয় করার লোক নেই। এমন পরিস্থিতি দেখে চাষিদের কাছে থেকে সরাসরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা ৫০ কেজি ওজনের বস্তা ১০০ টাকা দরে ক্রয় করেন। বুধবার রাত ১২টার দিকে বাঘা উপজেলায় আম্পান আঘাত হানে।

সূত্রে জানা গেছে, কালবৈশাখী ঘুন্নিঝড় আম্পান আঘাত ২০ ভাগ আম গাছ থেকে ঝড়ে পড়েছে। এই আম নিয়ে চাষিরা পড়েস বেকায়দায়। আড়ানী পৌরসভার গোচর মোড়ে ৫০ পয়সা কেজি দরে আম বিক্রি করতে দেখা যায়। এই দামেও আম কিনতে চাচ্ছে কেউ। ফলে নিরুপায় হয়ে পড়ে চাষিরা। এমন পরিস্থিতি দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৫০ কেজির বস্তা ১০০ টাকা দরে ক্রয় করেন।

উপজেলার আড়ানী গোচর গ্রামের আরিফুল ইসলাম বলেন, আমার আম বাগানে প্রতিটি গাছে পরিমানমত আম আছে। হটাৎ ঝড়ে অর্ধেক আম পড়ে গেছে। এই আম বিক্রি করার জায়গা নেই। কেউ কিনতে চাচ্ছে না। ফলে বাড়িতে রাখা হয়েছে।

উপজেলার আড়ানী গোচর গ্রামের কড়ালি ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বরাবর ঝড়ে পড়া আম কিনে ঢাকায় চালান করি। এই আম ৫০ পয়সা কেজি দরে কিনছি।

একই এলাকার বিক্রেতা শাহীন আলম বলেন, আমি বাগান পাহাড়া দিয়ে থাকি। এখনো বাগাম মালিক বাগানে নিয়োজিত আছি। এই ঝড়ে যে পরিমান আম, তাতে অনেক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে মালিকরা।

উপজেলার মনিগ্রামের আম চাষি জিল্লুর রহমান বলেন, প্রায় শতাধিক বিঘা আম বাগান লিজ নিয়ে চাষ করেছি। গাছে যথেষ্ট আম আছে। মহামারি করোনা ভাইরাস নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। এই ঝড়ে অনেক ব্যবসায়ী ও চাাষিদের পথে নামতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, উপজেলায় ৮ হাজার ৩৬৮ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এ বছর বাগানে আম কম থকায় উৎপাদন ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি ৬ থেকে ৭ মেট্রিক টন। মোট উৎপাদন ধরা হয়েছে ৯৪ হাজার মেট্রিক টন। এরমধ্যে ঝড়ে ক্ষতি হয়েছে ১৮ হাজার মেট্রিক টন।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, এই উপজেলায় খাদ্য শস্যের পাশাপাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে আম প্রধান। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উপজেরার আমের সুখ্যাতি সবচেয়ে বেশি। ঝড়ে পড়া আম আমি নিজে চাষিদের কাছে থেকে ৫০ কেজি ওজনের বস্তা ১০০ টাকা দরে ক্রয় করছি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *