বেড়া হাসপাতালে দেশীয় প্রযুক্তিতে সয়ংক্রীয় জীবাণুনাশক ফগ গেট স্থাপন করলেন তরুণ চিকিৎসক

পিপ (পাবনা) : পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা জীবাণুনাশক ফগ গেইট স্থাপন করে সেবা কার্যক্রম চালাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে গেটটি তৈরী করেছেন সেখানকার উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আব্দুল হালিম। এই গেট দিয়ে প্রবেশ করলে অটোমেটিক জীবাণু নাশক স্প্রে হয়। ফলে পুরো শরীর জীবানুমুক্ত হয়ে যাবে বলে দাবী এই ফগ গেট আবিষ্কারকের।

বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও গেট আবিষ্কারক আব্দুল হালিম জানান, সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারন করলে সবার মধ্যেই এক ধরনের অতংক ছড়িয়ে পরে। আর এই করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে সবাই চিন্তিত হয়ে পরে। এরই ধারাবাহিকতায় কিভাবে করোনামুক্ত থেকে হাসপাতালে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়, সেটা নিয়ে চিন্তা করতে থাকি। এক পর্যায়ে ইন্টারনেট ঘেঁটে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমার কর্মস্থলে জীবাণুনাশক সম্পূর্ণ অটোমেটিক স্প্রে গেইট তৈরী করি। এই জীবাণু নাশক গেট তৈরী করতে একটি পানি রাখার ড্রাম, কিছু পাইপ, স্প্রীং ও আনুসাঙ্গিক কিছু যন্ত্রপাতি লাগে। যা তৈরী করতে প্রায় দশ থেকে পনের হাজার টাকা খরচ হয়। গেটটি সচল রাখতে বিদুতের প্রয়োজন হয়।

সরকারী ভাবে সারা দেশের প্রতিটি হাসপাতালে এই ধরনের গেট স্থাপন করা হলে করো ভাইরাস সংক্রমনের হার কমবে বলেও দাবী এই গেট নির্মাতার।

প্রতিদিন বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরাও স্প্রে গেট থাকায় খুশি ও সন্তোষ প্রকাশ ককরছেন।

বেড়া পৌর এলাকার সবুজ আহমেদ বার্তা সংস্থা পিপ‘কে জানান, বর্তমানে করোনা ভাইরাস আতংক থাকলেও আমরা হাতমুখ সে ভাবে ধৌত করি না। আমি বৃহস্পতিবার আমার এক রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় ওই গেটের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করি। ফলে শরীরে জীবানু নাশক স্যানিটাইজার স্প্রে হওয়ায় নিজেকে জীবানুমুক্ত মনে হয়েছে।

বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এসএম মিলন মাহমুদ বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, করোনা সংকটকালে ফগ গেট বা স্প্রে মেশিন বসানোর মধ্যে দিয়ে এলাকার মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি জীবানুমুক্ত করে হাসপালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে পারছি বলে অনেকটাই স্বস্তিতে আছি।

এ জন্যে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আব্দুল হালিমকে ধন্যবাদ জানাই, পাশাপাশি এই সম্পূর্ণ সয়ংক্রীয় ভাবে স্প্রে গেট সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে স্থাপনের আহবান জানাচ্ছি সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *