বোলারদের নুয়ে পড়া দেখে দুঃখ পান কপিল

স্পোর্টস: নেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানো আর ক্লান্তিহীন বোলিং করে যাওয়া যুগের বোলার কপিল দেব। ফাস্ট বোলার হয়েও ১৩১ টেস্টের সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে চোটের কারণে কোনো টেস্ট বাদ যায়নি তার। এই টি-টোয়েন্টির যুগে তাই চার ওভার বোলিং করেই বোলারদের নুয়ে পড়া দেখে দুঃখ পান ভারতীয় কিংবদন্তি। ‘ইন্ডিয়া টুডে’-এর সঙ্গে কপিলের আলাপচারিতায় প্রসঙ্গ ছিল ভারতের পেস বোলিং অলরাউন্ডারের ঘাটতি। চোটের কারণে হার্দিক পান্ডিয়া বোলিং করতে পারছেন না নিয়মিত। উপযুক্ত আর কাউকে পাচ্ছেও না তারা। একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডারের অভাবে সম্প্রতি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভুগেছে ভারত। সর্বকালের সেরা পেস বোলিং অলরাউন্ডারদের একজন কপিল এই আলোচনা ছড়িয়ে দিলেন আরও বিশদ। সময়ের বাস্তবতা বোঝেন ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক। তার পরও অনেক কিছু দেখে তিনি বেদনা অনুভব করেন। “ আমার যেটা মনে হয়, বছরে ১০ মাস এমন ক্রিকেট খেললে চোট প্রবণতা বাড়ে। তবে ক্রিকেট তো এখন অনেক বেশি মৌলিক হয়ে গেছে, ব্যাটসম্যানরা শুধু ব্যাট করে, বোলাররা বোলিং। আমাদের সময়ে আমাদেরকে সবই করতে হতো।” “ ক্রিকেট তাই বদলে গেছে। ক্রিকেটার হিসেবে কখনও কখনও আমি দুঃখ পাই যে একজন ক্রিকেটার চার ওভার বোলিং করেই ক্লান্ত হয়ে ওঠে। এটাও শুনেছি যে তাদেরকে তিন-চার ওভারের বেশি (নেটে) বোলিং করতে দেওয়া হয় না।” এখনকার ক্রিকেটে ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুশীলনে কে কতটুকু করবে, তা একদম মেপে দেওয়া থাকে। কপিলদের সময়ে এরকম ধরাবাধা ব্যাপার ছিল না। এজন্যই অনেক বেশি অলরাউন্ডারের দেখা মিলত, বলছেন ৫ হাজার রান করা ও ৪০০ উইকেট শিকারি টেস্ট ইতিহাসের একমাত্র অলরাউন্ডার। “ মনে পড়ে, আমাদের সময়ৃ আমি বলব না ভুল বা ঠিকৃ যখন শেষ ব্যাটসম্যান ব্যাটিংয়ে আসত (নেটে), তখনও আমরা অন্তত ১০ ওভার বোলিং করতাম তাদেরকে। এই ধরনের মানসিকতাই থাকা উচিত এবং এভাবেই বোলারদের পেশি গড়ে ওঠে।” “ আজকের দিনে হয়তো ওই চার ওভারই যথেষ্ট। তবে আমরাৃ আমাদের প্রজন্মের কাছে এসব অদ্ভুত লাগে।”

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!