বড়দিনে করোনা থেকে মুক্তির প্রার্থনা

এফএনএস: সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বড়দিনের উৎসবকে মলিন করেছে করোনাভাইরাস। তাই জীবনদাতার কাছে প্রার্থনায় বারবার ঘুরেফিরে এসেছে এ থেকে মুক্তির বিষয়টি। শুক্রবার ছিল খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন। এই দিনে খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

খ্রিস্টধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, সৃষ্টি-কর্তার মহিমা প্রচার এবং মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে প্রভু যিশুর এই ধরায় আগমন ঘটেছিল। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের খ্রিস্টধর্মানুসারীরাও যথাযথ ধর্মীয় আচার, আনন্দ-উৎসব ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। তবে চলমান করোনাভাইরাসের কারণে আগের মতো জাঁকজমক হয়নি।

বড়দিন সরকারি ছুটির দিন হলেও এবার এটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে পড়ে। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দেন। বড়দিন উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার রাতে গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা এবং গতকাল শুক্রবার বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। দিনটি উপলক্ষে অনেক খ্রিষ্টান পরিবারে কেক তৈরি হয়, ছিল বিশেষ খাবারের আয়োজন। দেশের অনেক অঞ্চলে কীর্তনের পাশাপাশি ধর্মীয় গানের আসর বসে। গির্জা ও এর আশপাশে রঙিন বাতি জ¦ালানোর ব্যবস্থা করা হয়। ভেতরে সাজানো হয় ক্রিসমাস ট্রি। করোনাভাইরাস থেকে মুক্তিলাভের প্রার্থনায় সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশের খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উদযাপন করেন।

ঘরে ঘরে বড়দিনের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি গির্জাতে এসে তারা খ্রিস্টযোগে অংশ নিয়ে প্রার্থনা ও আনন্দ ভাগাভাগি করেন। গতকাল শুক্রবার খ্রিস্টযোগে অংশ নিতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পবিত্র জপমালা রাণীর গির্জায় হাজির হন খ্রিস্টধর্মাবলম্বী কয়েকশ মানুষ। যতটা সম্ভব করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখানে প্রথম খ্রিস্টযোগ হয় সকাল ৭টায় এবং দ্বিতীয় খ্রিস্টযোগ শুরু হয় সকাল ৯টায়।

দ্বিতীয় খ্রিস্টযোগে ঢাকা মহা ধর্মপ্রদেশের নব অভিষিক্ত আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রজ ওএমআই বলেন, সবাইকে প্রথমে বড়দিনের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাচ্ছি। আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই, তার একমাত্র পুত্রকে (যিশু), আমাদের মুক্তিদাতা-ত্রাণকর্তাকে এ জাগতে পাঠিয়েছেন। তিনি (যিশু) দেহ ধারণ করে মানুষ হয়েছেন আমাদের মুক্তির জন্য। আর এই মুহূর্তে সারাবিশ্ব শঙ্কিত, ভীত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে। সেজন্য প্রার্থনা করি যাতে বিশ্বের প্রতিটি মানুষ এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি লাভ করে, বিশ্ব করোনাভাইরাসের হাত থেকে মুক্তি লাভ করে।

যাতে আবার আমরা সুখে-শান্তিতে একাত্মতার মধ্যে জীবনযাপন করতে পারি। খ্রিস্টযোগে ধর্মীয় সঙ্গীত, প্রার্থনা, শাস্ত্রপাঠ হয়। বড়দিনের প্রায় ঘণ্টাব্যাপীর এ প্রার্থনায় যারা আনন্দ ও মিলনে কাছে নেই এবং যারা গরিব-দুঃখী-অসুস্থ, তাদেরকে স্মরণ করা হয়। তাদের মঙ্গলে ও বিপদমুক্তি লাভের প্রার্থনাও করা হয়। প্রার্থনায় আরও বলা হয়, করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারিতে আমাদের জগত প্রায় ধ্বংসের পথে।

যিশু আমাদের জীবনদাতা, তিনি যেন এই ভাইরাসকে দূরীভূত করে জগতকে নতুন জীবনদান করেন। যারা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে করোনায় আক্রান্ত, তারা যেন সুস্থ হয়ে ওঠেন। যারা মারা গেছেন, তারা যেন অনন্ত জীবন লাভ করেন।

যারা স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন, তারা যেন শক্তি ও সাহস পান। আসুন আমরা সেই উদ্দেশ্যে প্রভুর কাছে প্রার্থনা করি। সকলের জন্য প্রার্থনা করি- বড়দিনের উপহার শান্তি প্রেম ও পুনর্মিলন। সকলে যেন নতুন উদ্যম উৎসাহ ও আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করে আগামী বছরের প্রতিদিন আমাদের ব্যক্তি জীবন ও সমাজ জীবনে পালন করতে পারি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *