ভাঙ্গুড়ায় ছাত্র লীগ নেতাকে প্রাণ নাশের হুমকিতে সংবাদ সম্মেলন

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নিজ নামীয় সম্পত্তি বুঝিয়ে নিতে গেলে মোঃ আওলাদ হোসেন কর্তৃক প্রাণ নাশের হুমকি ও হয়রানীর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভূক্তভোগী পরিবার। বুধবার বিকেলে পৌর সদরের বাসষ্ট্যান্ড চত্ত্বরে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভূক্তভোগী পরিবারের পক্ষে উপজেলার মন্ডুতোষ গ্রামের মোঃ সুমন বাবু। ভুক্তভোগী বাবু ওই গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ মাষ্টারের ছেলে ও পাবনা জেলা ছাত্র লীগের সাবেক সহ-সম্পাদক,বর্তমান ভাঙ্গুড়া উপজেলা ছাত্র লীগের সহ-সভাপতি। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,আমার মা মোছাঃ শাহানাজ বেগম তার নিজ নামীয় ৩৮শতাংশ এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ৪৭ শতাংশসহ সর্বমোট ৮৫ শতাংশ জমি তার নিজ পুত্র মোঃ সুমন বাবুকে গত ১৭/১২/২০১৮ খ্রিঃ দলিল মুলে দান করেন। যার দলিল নং-৩১৫৪। আমার নিজ নামীয় সেই সম্পত্তি একই গ্রামের মৃত বয়েজ উদ্দিনের ছেলে ও মন্ডুতোষ ইউনিয়ন নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আওলাদ হোসেন ও তার বড় ভাই আউয়াল আলী এতদিন যাবৎ ভোগ দখল করে আসছিল এবং ওই জমি আমি তাদের নিকট থেকে বুঝিয়া চাইলে তারা আমাকে ও আমার মাকে প্রাণ নাশের হুমকি,অকথ্য ভাষায় গাল মন্দ ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করবে মর্মে হুমকি প্রদান করে। আমি কোন উপায়ান্তর না পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় গত ১৩/০১/২০১৯ খ্রিঃ একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের করি। যাহার নং-৪৬২। কিন্তু থানা পুলিশ আমার বৈধ দালিলিক সম্পত্তি আমাকে বুঝিয়ে দিতে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। এমতাবস্থায় গত ২৩/০১/২০১৯ খ্রিঃ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে লোক মারফত খবর পাই যে আমার ওই সম্পত্তিতে আওলাদ হোসেন ও তার বড় ভাই আউয়াল আলী এবং তার আপন ভাগ্নে লিটন আলীসহ আনুমানিক ১৫/২০ জন লোক নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ করিয়া প্রায় ২০ বছর বয়সী ৫টি লিচু গাছ ,১৫৪টি বাশ,০২টি বড় কুলগাছ,১২টি মেহগনী,৩টি দেবদারু সহ অন্যান্য গাছ জোরপূর্বক কেটে ফেলে এবং বাঁশ গুলো ইঞ্জির চালিত করিমন গাড়ী যোগে নিয়ে যায়। যার ক্ষতির পরিমান আনুমানিক প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। এসময় আমি সেখানে উপস্থিত হইয়া আমার সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ করে ক্ষতি সাধন না করার জন্য অনুরোধ করলে আওলাদ হোসেনসহ তার লোকজন আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করেন। আমি উপায়ান্তর না পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আওলাদ হোসেনকে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে নিষেধ করেন। কিন্তু আওলাদ হোসেন পুলিশের উপর চড়াও হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান। এসময় আওলাদের সঙ্গে থাকা অন্যান্য লোকজন পালিয়ে যায়। পরবর্তী তার বড় ভাই আউয়াল আলী থানায় হাজির হয়ে উক্ত সম্পত্তি আমাকে বুঝিয়ে দিবে মর্মে থানায় মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। কিন্তু অধ্যবধি পর্যন্ত ওই সম্পত্তি আমাকে বুঝাইয়া না দিয়ে বরং আমার উপর মিথ্যা মামলা দায়ের ও অবিরত প্রাণনাশের হুমকি প্রদান অব্যহত রেখে চলেছে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচার পেতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সম্মেলনে তার স্বাক্ষরিত একটি করে পত্র উপস্থিত সাংবাদিকদের মাঝে বিতরণ করেন। এসময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন মন্ডতোষ ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ,উপজেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক শামীম আহম্মেদ,মন্ডতোষ ইউনিয়ন যুব লীগের সহ-সভাপতি বাবুল আক্তার,মন্ডতোষ ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোঃ শামীম হোসেন আরিফ ও সাবেক সহ-সভাপতি শের মাহমুদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *