ভাঙ্গুড়ায় স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টাকে ধামাচাপার চেষ্টা !

পিপ (পাবনা) : পাবনার ভাঙ্গুড়ায় এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পল্লী চিকিৎসক রফিকুল ইসলামের (৩২) বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকালে উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের পুঁইবিল গ্রামে। অভিযুক্ত রফিকুল একই ইউনিয়নের তাঁরাপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রফিকুল গা ঢাকা দিয়েছেন। অপরদিকে অভিযুক্ত প্রভাবশালী হওয়ায় থানা পুলিশের নিকট অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছেন ভিকটিমের পরিবার। এদিকে ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদ কায্যালয়ে নিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন।

ভিকটিমের পরিবারের সাথে কথা বললে তারা জানান, ঘটনার দিন সকালে তাদের বাড়িতে কেউ ছিল না। এ সময় ওই ছাত্রী ঘরের মধ্যে একা টিভি দেখছিল। সেই সময় ওই ছাত্রীর বাড়িতে দোকানের হালখাতার কার্ড নিয়ে হাজির হন অভিযুক্ত রফিকুল। ছাত্রীকে ঘরে একা পেয়ে রফিকুল তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধষর্ণের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রী কান্নাকাটি শুরু করলে রফিকুল ছাত্রীর হাতে ২০ টাকা দিয়ে বিষয়টি কাউকে বলতে নিষেধ করে পালিয়ে যায়।

পরে ভিকটিমের মা বাড়িতে এলে সে কান্না জড়িত কন্ঠে ঘটনাটি তার মাকে খুলে বলে। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হলে ওইদিন রাতে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে দিলপাশার ইউনিয়ন পরিষদে শালিস বৈঠক করা হয়। বৈঠকে ইউপি চেয়ারম্যান অশোক কুমার ঘোষ প্রনোর নেতৃত্বে স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার সরদার, গ্রাম প্রধান আবু বক্কার খা ও আবুল প্রামানিক উপস্থিত থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় অভিযুক্ত রফিকুলকে।

এ সময় ছাত্রীর পরিবার বিচার না মানলে চেয়ারম্যানসহ উপস্থিত সবাই বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখায়। কিন্তু ভিকটিমের পরিবার সুষ্ঠু বিচার চান টাকা চান না বলে সাফ জানিয়ে দিয়ে চলে আসতে চাইলে চেয়ারম্যান তাদের নিকট থেকে সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর রেখে দেন। তবে অভিযুক্ত রফিকুল স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় ভিকটিমের পরিবার থানা পুলিশের নিকট অভিযোগ করতে ভয় পচ্ছেন বলেও জানান ভিকটিমের মা।

ছাত্রীর বাবা সুবিচার না পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, আমরা গরিব মানুষ বলে কি সমাজে বিচার পাইবো না। আমাগো ইজ্জতের কি দাম নাই, আমরা টাকা চাই না? বিচার চাই।

ঘটনার বিষয়ে দিলাপাশার ইউপি চেয়ারম্যান অশোক কুমার ঘোষ প্রনো বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, অভিযুক্ত রফিকুল ভিকটিকে শ্লীলতাহানি করেছে মর্মে স্বীকার করেছে। তবে জরিমানার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, শনিবার রাতে উভয় পরিবারকে নিয়ে পরিষদে শালিশ বৈঠক বসা হয়েছিল। কিন্তু বৈঠকে ছাত্রীর পরিবারের টাকার দাবি না থাকায় আপোষ মীমাংসা হয়নি। কিন্তু ফরমালিটি মেইন্টেনের জন্য তাদের কাজ থেকে স্বাক্ষর রাখা হয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *