ভাঙ্গুড়ায় সড়ক দখল করে দ্বিতল ভবনের সিঁড়ি তৈরি

পিপ (পাবনা) : রেলের জায়গা দখল করে দোতলা ভবন নির্মাণ করে সমালোচিত হয়েছিলেন পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরশহরের ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার একরাম আলী। গত বছরের জানুয়ারি মাসে সরকারি জায়গায় অবৈধ ভবন নির্মাণের বিষয়ে প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করেছিলো। এতেও থামেননি ঠিকাদার একরাম আলী। এবার ওই ভবনের দোতলায় উঠতে সড়ক দখল করে নির্মাণ করলেন সিঁড়ি।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, দু’বছর আগে ওই জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ শুরু করেন একরাম আলী। এ সময় কয়েক দফা রেলের কর্মকর্তারা এসে বাঁধা দেন। পরে তাদেরকে ম্যানেজ করে দুই তালা ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন ঠিকাদার একরাম। পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ডের পাশে এই ভবন নির্মাণের ফলে চারমাথা মোড়ে একটি বাঁকের সৃষ্টি হয়। যে কারণে এই মোড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে রেলের পশ্চিমাঞ্চল এর কর্মকর্তারা গত বছরের জানুয়ারি মাসে অভিযান চালিয়ে ভবন মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কিন্তু এতেও থেমে থাকেননি একরাম। গত সপ্তাহে আবার ওই ভবনের দোতালায় ওঠার জন্য তিনি সড়ক দখল করে লোহার সিঁড়ি নির্মাণ করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা পৌরসভার কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেন। তবে রহস্যজনক কারণে পৌরসভার কর্মকর্তারা বিষয়টি চেপে যান।
রেলের জায়গা ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তা দখল করে দোতলা ভবন নির্মাণ করেছেন ঠিকাদার একরাম আলী। এতে ভবনের সামনে মারাত্মক বাঁকের সৃষ্টি হয়েছে। এই ভবনের নিচতলায় বাজাজ মোটরসাইকেলের শোরুম এবং দোতালায় কফিশপ রয়েছে। ভবনটিতে দোতালায় উঠার জন্য ভিতরে কোনো সিঁড়ি নেই। তাই সড়ক দখল করে ভবনের বাহির দিকে লোহার সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে। রাস্তার প্রায় ১০ ফিট জায়গা দখল করে এই সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে সড়কে চলাচলকারী যানবহন যেকোনো সময় এই সিড়িতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, সিঁড়ি নির্মাণের সময় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছিল। কিন্তু তারা দায়িত্ব অবহেলা করে এখানে ঠিকাদারকে সেই নির্মাণের জন্য সুযোগ করে দিয়েছেন। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
এ বিষয়ে ঠিকাদার একরাম আলী সমকাল‘কে বলেন, শখ করে ভবনের দোতলায় কফিশপ বসিয়েছি। তাই সেখানে ওঠার জন্য একটু সড়ক দখল করে সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের খুব একটা অসুবিধা হবে বলে মনে হয় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, পৌরসভার কর্মচারী পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলেছিলাম। এরপরও যদি ওই সিঁড়ি নির্মাণ হয়ে থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *