ভালো থাকতে ছয়টি বিষয় মাথায় রাাখুন

লাইফস্টাইল: নতুন বছরে অনেক প্রতিজ্ঞার মাঝে কিছু বিষয় ঝেরে ফেলুন জীবন থেকে। নিজেকে ছোট ভাবা, যে সমস্যার সমাধান নেই সেটা নিয়ে পড়ে থাকা- এই ধরনের বিষয়গুলো থেকে বের হয়ে আসতে পারলে জীবন আরও সুন্দর হয়ে ওঠে। জীবনযাপন-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে এই বিষয়ে জানানো হল বিস্তারিত।

তুলনা করা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যের দেওয়া ছবি দেখে হিংসা করার কিছু নেই। সেই ছবি দেখে ‘আমার জীবনে কেনো এরকম কেনো?’ এই ভাবনারও কোনো মানে হয় না। কারণ ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রামে দেওয়া একটা সুন্দর ছবি একটা মুহূর্তের অংশ মাত্র। সেটা দেখে অন্যরা ভালো আছে, আর নিজে ভালো নেই এরকম তুলনা করার কোনো মানে হয় না। বরং যাদের প্রতি গুণমুগ্ধ এই বছর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করুন।

পরিবার ও বিবাহ-বিষয়ক লাইসেন্সপ্রাপ্ত পরামর্শক ক্যালিফোর্নিয়ার ‘দি জিনিয়া প্র্যাকটিস’ প্রতিষ্ঠানের ইবাইনি ওসিবোডু-ওনিয়ালি বলেন, “যাদের প্রতি আপনি গুণমুগ্ধ তাদের সঙ্গে না হয় এবছর সরাসরি যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন। দেখবেন বন্ধুর অভাব হবে না, আবার নতুন মানুষের সঙ্গে মেশার যে আনন্দ সেটাও পাবেন। বাড়তি পাওনা হবে নতুন কিছু শেখা।”
ভয় থেকে পিছিয়ে থাকা: কোনো কিছু করার জন্য ভয় পেয়ে পিছিয়ে থাকা বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন এই বছর।

নিউ ইউয়র্কের ‘দি সোহো সেন্টার ফর মেন্টাল হেল্থ কাউন্সেলিং’য়ের চিকিৎসক অ্যান্থনি ফ্রেইরি এই বিষয়ে বলেন, “ভয়, লজ্জা এবং অপরাধবোধ এগুলোর ওপর আলো ফেলুন। ভাবুন কেনো এরকম ভাবছেন। এসব থেকে নিজেকে মুক্ত করতে বিছানায় গা এলিয়ে না থেকে বরং ঝটকা দিয়ে উঠে বসুন। তারপর যা করতে চান সেটা করার চেষ্টা করুন। বিষয় হল- ভয়, লজ্জা বা অপরাধ বোধের অনুভূতিগুলো সমস্যা তৈরি করে। এই বছর এগুলো মন থেকে ঝেরে ফেলার চেষ্টা করুন।”

যা হবে না তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করা: দুঃশ্চিন্তা, মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকা সব সময় সম্ভব হয় না। বরং বলা যায় এগুলো জীবনেরই অংশ। তবে সব বিষয় নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করার মানে হয় না। বিশেষ করে যেগুলোর কোনো সমাধান করতে পারবেন না।

ওসিবোডু-ওনিয়ালি বলেন, “কোন বিষয়গুলো পরিবর্তন করতে পারবেন সেটাতে মনোযোগ দিন। সমস্যাগুলো একটা কাগজে লিখে চিহ্নিত করুন কোনটা সমাধান করতে পারবেন কোনটা পারবেন না। যেটা পারবেন না সেটা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করা বাদ দিন। প্রথম অবস্থায় এটা সম্ভব না হলেও ধীরে ধীরে এই বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠবেন।”

মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত দুঃশ্চিন্তা করা যদি নাই কমাতে পারেন তবে মনরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এটা এক ধরনের মানসিক অসুস্থতা যা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিয়ে সহজেই দূর করা সম্ভব।

পুরানো রাগ পুষে রাখা: গবেষণায় দেখা গেছে পুরানো অসন্তোষ কিংবা রাগ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় পুষে রাখা শরীর ও মনের জন্য বিষাক্তকর।
ওসিবোডু-ওনিয়ালি পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেন, “এই বছর না হয় ঝেরে ফেলুন মনে পুষে রাখা পুরানো রাগ। যাদের কারণে এই বোধ চেপে রাখছেন তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করুন। অথবা সেই সম্পর্ক মেরামত করার চেষ্টা করুন।”

যে অনেক বেশি কষ্ট দিয়েছে তার ক্ষেত্রে হয়তো সব কিছু ভুলে যাওয়া সম্ভব হয় না। তবে দূরত্ব তৈরি হলে সেই সম্পর্ক থেকে দূরে থাকাই ভালো; সরে আসতেও সহজ হয়। তাই ছেড়ে দিয়ে সামনে বাড়–ন। সেটা হবে দেহ-মনের জন্য স্বাস্থ্যকর।

অন্যরা কী ভাববে: সবার মন রক্ষা করে চলা সম্ভব না। আবার সবাই আপনাকে সঠিকভাবে চিনবে সেটাও ঠিক না। পৃথিবীও শেষ হয়ে যাচ্ছে না। তাই যাঁরা আপনাকে সম্মান করবে অভয় দেবে তাদের সঙ্গেই থাকুন। অন্যরা কী ভাবলো সেই চিন্তা মাথা থেকে বের করে দিতে হবে। কারণ সবাই সব ‘গ্রুপে’ থাকতে পারবে- এটা একটা অবান্তর ভাবনা।
তর্কে সব সময় জেতার চেষ্টা: অন্যের সঙ্গে ঝগড়া করে নিজেকে সঠিক প্রমাণের চেষ্টা করার মাঝেও মানসিক চাপ কাজ করে।

অ্যান্থনি ফ্রেইরি বলেন, “চিন্তা করে দেখুন তো কতবার ঝগড়ার সময় নিজে সঠিক প্রমাণ করতে গিয়ে বাজে কথা বলেছেন অন্যকে, পরে নিজেই অপরাধী হয়ে ক্ষমা চেয়েছেন কতবার, হয়তো বলেছেন, ‘রাগের মাথায় বাজে কথা বলেছেন যা ঠিক হয়নি।”

“এরকম করার চাইতে বরং সব ঝগড়ায় জিততেই হবে এই মনোভাব বাদ দিন। যে বিষয়ে ঝগড়া হতে পারে সেটা নিয়ে তর্ক না করে বরং সমাধান করার চেষ্টা করুন। আর তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান না হলে বরং সময় নিন। ত্বর্কে-ঝগড়ায় বাজে কথা বলে পরিস্থিতি আরও বিষিয়ে তোলার মানেই হয় না।”

বছরের শুরুতে এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে বরং আগে বাড়–ন। হতাশা ঝেড়ে নিজের ক্ষমতায় যা কুলায় সেটাই করার চেষ্টা করে যান। নিজের সাফল্য নিয়েই নিজে খুশি হন। অন্যের সঙ্গে তুলনা বা ঝগড়া না করে, নিজের সময়টাকে অর্থবহ করে তুলুন এই বছর। ছবি: রয়টার্স।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *