ভ্যাকসিন এড়াতে ছেলেদের ‘অপহরণ’ করলো মা

বিদেশ : বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। আন্তর্জাতিক জরিপকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য মতে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৪ লাখ ৮১ হাজার ৮৬৫ জন। আর এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৯ কোটি ৮২ লাখ ২৩ হাজার ৮৯৪ জনের। তাই ভাইরাস থেকে বাঁচতে টিকা নিতে বুথগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে মানুষদের। নাগরিকদের জীবন বাঁচাতে কঠোর পদক্ষেপ নিতেও শুরু করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার। কিন্তু এরইমধ্যে অনেক মানুষ আছেন যারা কিনা টিকা নেওয়া থেকে বিরত থাকছেন। নিজের এবং আশপাশের মানুষের জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্বেও তারা করোনাভাইরাসকে কোনো পাত্তাই দিচ্ছেন না। তেমনই একজন স্পেনের সেভিল শহরের বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী এক নারী। স্বামী যাতে সন্তানদের করোনার টিকা দিতে না পারেন সেজন্য অপহরণ করেন নিজের দুই অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে সন্তানকে। স্পেনের বিচার বিভাগের সঙ্গে জড়িত একটি সূত্র জানায়, ওই নারীর সঙ্গে অনেকদিন আগেই তার স্বামীর বিচ্ছেদ হয়েছে। বিচ্ছেদের পর থেকেই ১২ ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশু তাদের বাবার জিম্মায় ছিল। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি শিশু দুটির বাবা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়ে জানান, সন্তানদের জিম্মা না থাকা সত্বেও তার সাবেক স্ত্রী দুই শিশুকে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। শিশু দুটির বাবা বলেন, সন্তানরা কোথা থেকে করোনার টিকা নেবে এ বিষয়ে নভেম্বরের শুরুর দিকে আদেশ দেন আদালত। আমার প্রাক্তন স্ত্রী ওই আদেশের একদিন পরেই গোপনে দুই সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান। এরপরই আমি একটি চিঠি পাই, যাতে তিনি দুই সন্তানকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার কথাও জানান।এদিকে অভিযুক্ত ওই নারী গত বুধবার দুই সন্তানকে নিয়ে সেভিল পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই দুই শিশুকে তাদের বাবার জিম্মায় পাঠানো হয়েছে। করোনার প্রকোপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ইউরোপ। বিশেষ করে ভাইরাসটির ডেল্টা ধরনের পর ওমিক্রনের হানা দেওয়ায় ওই অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি বিপদজনক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। এরইমধ্যে করোনা থেকে বাঁচাতে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দিতে শুরু করেছে অনেক দেশ। এইসব দেশের মধ্যে স্পেনও রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *