মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ‘‘শুদ্ধাচার পুরস্কার” এর জন্য মনোনীত হলেন অতিরিক্ত সচিব মো.আমিনুল ইসলাম

পিপ (পাবনা) : মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ‘‘শুদ্ধাচার পুরস্কার”-এর জন্য মনোনীত হলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান অতিরিক্ত সচিব, পল্লিউন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) – বগুড়ার মহাপরিচালক, দক্ষ প্রশাসক ও বরেণ্য সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং পাবনার কৃতীসন্তান মো. আমিনুল ইসলাম। স্থানীয় সরকার, পল্লিউন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লিউন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সহকারী সচিব নাহরিন সুলতানা কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

মো. আমিনুল ইসলাম ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের জন্য নির্বাচিত হয়ে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ১৯৮৯ সালের ২০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে যোগ দেন। তিনি ১৯৯৭ সালে সিনিয়র সহকারী সচিব, ২০০৬ সালে উপসচিব এবং ২০১৬ সালে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পান। কর্মজীবনে তিনি দ্বিতীয় ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে রাজশাহীর বোয়ালিয়া (মেট্রোপলিটন এলাকা) এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, রাজশাহী অঞ্চলের ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে, সহকারী পরিচালক হিসেবে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে এবং উপ-পরিচালক হিসেবে ঝখএউঋ প্রকল্পে (টঘউচ, টঘঈউঋ, ঋটঘউঊউ), উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে নাটোর সদর উপজেলা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উপসচিব) হিসেবে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, রাজশাহীর স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার অফিসে প্রথমে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) হিসেবে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে তিনি অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি পল্লিউন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)-বগুড়ার মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। কর্মজীবনের সর্বত্র তিনি সততা ও দক্ষতার সাথে কাজ করেন।

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিজ উদ্যোগে কালেক্টরেট কলেজ প্রতিষ্ঠা, সিরাজগঞ্জ স্টেশন বাজারের সন্নিকটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার “মুক্তির সোপান” নির্মাণ, শহিদ মহকুমা প্রশাসক “শামসুদ্দিন বেইদী” নির্মাণ এবং মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরোত্তপূর্ণ অবদানের জন্য “শহিদ মহকুমা প্রশাসক শামসুদ্দিন স্মারক-গ্রন্থ” প্রকাশ এবং তাঁর নামে শিক্ষা-ট্রাস্ট চালু করেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট ও স্কাউটস এর দ্বি-তল ভবন নির্মাণ করেন।

২০০৪ সালে তিনি বিসিএস প্রশাসন সমিতি, নাটোর জেলার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। স্কাউটিং কাজে গতিশীলতা আনয়নের জন্য বাংলাদেশ স্কাউটস কমিশনার থেকে ২০০৫ সালে “ন্যাশনাল সার্টিফিকেট অ্যাওয়ার্ড” এবং ২০০৯ সালে “মেডেল অব মেরিট, সভাপতি” লাভ করেন। ২০১১ সালের ২৭ জুলাই সুইডেনে অনুষ্ঠিত বাইশতম স্কাউটস জাম্বুরিতে ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস টিমে বাংলাদেশ থেকে যে দশ সদস্য অংশগ্রহণ করেন মো. আমিনুল ইসলাম তাঁদের একজন। সেখানে সুন্দরবনকে বিশ্বের নতুন সপ্তাশ্চার্যের একটি করার জন্য একশো ষাটটি দেশের প্রতিনিধি ও স্কাউটসদের মধ্যে ক্যাম্পেইং ও লিফলেট বিতরণ করেন। ২০১৫ সালের জুলাই-আগস্ট জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্কাউটস জাম্বুরিতে বাংলাদেশ স্কাউটস দলের “গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ভিলেজ” দলের কনভেনর হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ স্কাউটস, রাজশাহী অঞ্চলের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মো. আমিনুল ইসলাম ১৯৬২ সালে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার ইক্ষু-গবেষণা ইনস্টিটিউটে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ছবির উদ্দিন ও মাতা আছিয়া বেগম।
মো. আমিনুল ইসলাম ঈশ্বরদী উপজেলার অরোনকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি সাঁড়া মাড়োয়ারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ, পাবনা থেকে এইচএসসি পাস করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পরিসংখ্যানে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। উভয় পরীক্ষাতেই তিনি প্রথম স্থান লাভ করেন। ১৯৯০ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলোশিপ নিয়ে এমফিল করেন। উল্লেখ্য যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ার পর তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে ফেলোশিপ ও এমফিল ডিগ্রি লাভ করেন।

পরবর্তীতে কর্মরত অবস্থায় তিনি ঢাকার সাভারস্থ ইচঅঞঈ, শাহবাগস্থ প্রশাসন একাডেমি, ইউনিসেফ রাজশাহী, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (ভাটিয়ারি, চট্টগ্রাম), ঘওখএ ঢাকা, জউঅ বগুড়া, ইঅজউ কুমিল্লা, টঘউচ, টঘঈউঋ, ওউই ভবন আগারগাঁও, ঢাকা স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন সংক্রান্ত ও শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি ম্যাট কোর্সে চৌত্রিশ ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে সিঙ্গাপুর সিভিল সার্ভিস কলেজে উচচতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *