মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য বৃক্ষরোপন করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ-লাল

মিজান তানজিল, পাবনা: জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল রহিম লাল বলেন, বৃক্ষরোপন শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করে না, মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য বৃক্ষরোপন করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বৈষয়িক প্রয়োজনেও তাই বৃক্ষরোপণ করা একান্ত দরকার। যে কোনো ফল ও ফসল উৎপন্ন হলেই তা মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। এমনকি ওই ফল বা ফসল যদি উৎপাদনকারী বা প্রকৃত মালিক নাও পায়, কেউ যদি চুরি করে নিয়ে যায় তাতেও সমাজের কারও না কারও প্রয়োজন পূর্ণ হয়। অর্থাৎ ওই ফল বা ফসল, সর্বাবস্থায়ই অর্থনৈতিকভাবে মূল্যমান।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আরো বলেন,ইসলাম এ বিষয়ে মানুষকে সান্তনা প্রদান করেছে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যদি কোনো মুসলিম কোনো ফলের গাছ লাগায় বা বাগিচা করে অথবা ক্ষেতে কোনো শস্যের বীজ বপন করে, তা থেকে উৎপন্ন কোনো ফল মানুষ বা পশুপাখি যদি খায়, তবে ওই বৃক্ষের মালিক, বাগিচা ওয়ালা বা ক্ষেত ওয়ালা সদকার সওয়াব পাবে।

রবিবার সকালে পাবনা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী এবং অত্যাধুনিক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও ওয়াই-ফাই সম্পন্ন মাল্লিমিডিয়া ক্লাশরুম ও কনফারেন্স রুমের উদ্বোধন কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন তা এখন শুধু স্বপ্ন নয় বাস্তবায়নের পথে। এটা এখন স্কুল কলেজের দিকে তাকালেই বুঝা যায়। টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে যে ভাবে ডিজিটালে ছোঁয়া পরেছে তা আসলে উপলদ্ধি করার মত।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের ধর্ম শিক্ষক একেএম আব্দুল হাকিম। স্বাগত বক্তব্য দেন চীফ ইন্সট্রাক্টর শাহ আলম। এসময় কলেজের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার জমিদার রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিটিভি’র জেলা প্রতিনিধি ও পাবনা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি আব্দুল মতীন খান।অন্যানের মাঝে উপস্থিত ছিলেন অত্র কলেজের চীফ ইন্সট্রাক্টর জাকির হোসেন,মিজানুর রহমান, তারিকুল হাকিম,নুর মো: আনোয়ার রশিদ, লিপি রাণী সরকার,বাসুদেব রায়,ইন্সট্রাক্টর হাসানুজ্জামান, রতন কুমার রায়, শাহানারা খোন্দকার, আলী আকবর মিঞা,জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর মীর মো: আবু জাফর সহ আরো অনেকেই।
কলেজের অধ্যক্ষ জানান, আমাদের কলেজের জরাজীর্ণ পরিবেশ থেকে কলেজের পরিবেশ উন্নীত করতে ইতোমধ্যেই কলেজ ক্যাম্পাস পরিস্কার করা হয়েছে এবং সেই কলেজে থাকা গাছগুলো সরকারি নিয়ম অনুযায়ি ট্রেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি হয়। এবং সেই সাথে এক গাছের বদৌলতে ৫টি করে ফলদ ও বনজ গাছ লাগানো হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ রবিবার কলেজ ক্যাম্পাসে ৯টি ভিয়েতনামী নারিকেল গাছের চারা,৩টি বিখ্যাত চায়না-৩ জাতের লিচু গাছের চারা,৩টি হারিভাঙ্গা আমের গাছ,১৫টি মেহগনি গাছ,৮টি বকুল ফুলের গাছ,১টি চেরী ফুলের গাছ ও ১টি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা মিলে মোট ৪০টি চারা রোপন করা হয়।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *