‘মেসি হ্যাঁ, বার্তোমেউ না’, উত্তাল ক্যাম্প ন্যু

স্পোর্টস: ‘মেসি দয়া করে তুমি আমাদের ছেড়ে যেও না, আমরা তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’- এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে ফুঁসছে বার্সেলোনার স্টেডিয়াম ক্যাম্প ন্যু’র চারপাশ। বার্সা ছাড়বেন লিওনেল মেসি, এমন ঘোষণা আসার পর থেকে ক্যাম্প ন্যু প্রাঙ্গণে এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে আছে কাতালুনিয়ারা। কেবল মেসির থেকে যাওয়া নিয়ে উত্তাল নয় বার্সেলোনা। একই সঙ্গে বর্তমান ক্লাব প্রেসিডেন্ট জোসেফ মারিয়া বার্তোমেউর বিদায় চাইছেন সমর্থকরা। ১৩ বছর বয়সে লা মেসিয়াতে যোগদানের তিন বছরের মধ্যে মূল দলে নিজের জায়গা দখল করে নেওয়া।

রোনালদিনহো, স্যামুয়েল এতো, থিয়েরি অঁরিদের ভিড়ে ফুটবল বিশ্বে নিজেকে আলাদা করে চেনানো। জাভি, ইনিয়েস্তাদের সংস্পর্শে এসে নিজেকে বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রমাণ করা। বার্সেলোনাকে একের পর এক শিরোপা এনে দেওয়া। গত ১৭ বছর ধরে কাতালান ক্লাবটিকে দু’হাত ভরে দিয়ে গেছেন মেসি। অথচ সেই ক্লাবকে ২৫ আগস্ট এক ফ্যাক্স বার্তায় মেসি জানিয়ে দিয়েছেন, আর বার্সার জার্সি গায়ে চড়াতে রাজি নন তিনি। কিন্তু মেসির এমন সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি বার্সা এবং মেসির সমর্থকরা। এমন ঘোষণা আসার পর ক্যাম্প ন্যুর সামনে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন সমর্থকরা। করোনাভাইরাসকে উপেক্ষা করে মাস্ক পরে চলে আসেন সমর্থকরা।

কেউ হয়ত মেসির বিখ্যাত সেই ‘এলএম১০’ জার্সি গায়ে চাপিয়ে এসেছেন তো কেউ হাতে নিয়ে। কিন্তু সবার একটাই স্লোগান, ‘বার্সা ছেড়ে যেও না মেসি।’ সমর্থকদের বেশিরভাগ মনে করছেন, ক্লাব সভাপতি বার্তোমেউর চাপে বার্সা ছাড়ার মতো ভয়ানক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেসি। আর তাই মেসিকে থাকতে বলার পাশাপাশি স্লোগানে জায়গা পেয়েছে, নতুন আরেকটি লাইন, ‘বার্তোমেউ পদ ছেড়ে পালাও।’ এছাড়াও যারা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে আসতে পারেনি, তারা অনলাইনে চালাচ্ছেন প্রতিবাদ। যেখানে হ্যাশট্যাগে স্থান পেয়েছে, ‘মেসি হ্যাঁ, বার্তোমেউ না।’ মেসিকে কখনো না কখনো ছাড়তে হবে বার্সেলোনা, ছাড়তে হবে ফুটবলও।

তবে সেটি কখনো এতটা বিবর্ণ হোক, চাইছেন না কোনো মেসি কিংবা ফুটবল সমর্থকও। এক সমর্থকের কণ্ঠে তাই মেসিকে নিয়ে আক্ষেপ, ‘মেসি থামবে, থেমে যাবে মেসির পায়ের জাদুও। কিন্তু এভাবে? এটা অবিশ্বাস্য। মেসি ছাড়া বার্সাকে এখন কোনোভাবে কল্পনা করা সম্ভব না। আমরা ভাবতে চাই না, দেখতেও না। মেসি তুমি থাকো। তোমায় অনেক ভালোবাসি। বিদায় নিলে পালের গোদা বার্তোমেউ নেবে।’

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *