বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপের ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের সিএফও মেং ওয়ানঝৌ’র বিষয়ে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে মেং ওয়ানঝৌ’কে গ্রেফতার করেছিল কানাডার কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে গ্রেফতার হওয়া এই নারী এখন প্রত্যর্পণ শুনানির অপেক্ষায় রয়েছেন। গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এমন অবস্থানের জানান দেন তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমার যদি মনে হয়, এটা (হুয়াওয়ের সিএফও’র বিষয়ে বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ) আমাদের দেশের জন্য ভালো, তাহলে প্রয়োজনে আমি অবশ্যই এ ব্যপারে হস্তক্ষেপ করবো। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক। ওভাল অফিসে বসে রয়টার্স’কে দেওয়া এ সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যদি আমি মনে করি যে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তির জন্য এই হস্তক্ষেপ ইতিবাচক হবে, তাহলে তা-ই করা হবে। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে একটি ভালো বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের আশাবাদের কথাও জানান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, হুয়াওয়ের প্রধান অর্থ বিষয়ক কর্মকর্তা মেং ওয়ানঝৌ ইরানের সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক লেনদেনের বিষয়ে একটি বহুজাতিক ব্যাংককে বিভ্রান্ত করে ঋণদাতাদের ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের ঝুঁকিতে ফেলেছেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণের অনুরোধে সাড়া দিয়ে গত ১ ডিসেম্বর ভ্যাঙ্কুভার বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করে কানাডার কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার ভ্যাঙ্কুভার আদালতে শুনানি শেষে ১ কোটি কানাডীয় ডলার এবং অন্যান্য শর্তে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক উইলিয়াম এচরেক। হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতার মেয়ে ৪৬ বছর বয়সী মেংকে গ্রেফতারের পর আর্থিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। এ ছাড়া বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য বিরোধ নিরসনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এই গ্রেফতারের ঘটনা। দ্রুত কানাডা তাকে মুক্তি না দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় চীন। এরইমধ্যে চীনে সাবেক এক কানাডীয় কূটনীতিককে আটক হয়েছে। হুয়াওয়ের ঘটনার সঙ্গে ওই আটকের দৃশ্যমান কোনও সংযোগ না থাকলেও চীন এ ইস্যুতে প্রতিশোধ হিসেবে তাকে আটক করেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। মাইকেল কভরিগ নামের সাবেক ওই কানাডীয় কূটনীতিক বর্তমানে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’-এ কাজ করছেন। তাকে নিরাপদে মুক্ত করে আনতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক এ প্রতিষ্ঠানটি। মাইকেল কভরিগ-এর গ্রেফতারে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষ। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *