রাখি ‘চরিত্রহীন’: তনুশ্রী!

বিনোদন রিপোর্ট: তনুশ্রী দত্ত ও রাখি সায়ন্তর কাদা ছোঁড়াছুড়ি চলছেই। বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে তনুশ্রী দত্তর যৌন হেনস্তার অভিযোগের পর গোটা বলিউডে শুরু হয় যৌন নিপীড়নবিরোধী ‘হ্যাশট্যাগ মি টু আন্দোলন’। অনেকেই তনুশ্রীকে সমর্থন করেছেন, বলেছেন নিজেদের অভিজ্ঞতাও। আবার কেউ চুপচাপ এড়িয়ে গেছেন। কিন্তু প্রথম থেকেই তনুশ্রীর বিরোধিতা করে আসছেন রাখি সায়ন্ত।
নানা পাটেকারের ঘটনা প্রকাশ্যে আনার পর রাখির ক্রমাগত বিরোধিতা দেখে তাঁর বিরুদ্ধে ১০ কোটি রুপির মানহানি মামলা করেন তনুশ্রী। তার পরিপ্রেক্ষিতে তনুশ্রীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি রুপির মানহানির মামলা করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন রাখি। সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে ‘বিতর্ক রানি’ রাখি সায়ন্ত দাবি করেন, সমকামী তনুশ্রী না কি তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। এমনকি শরীরে নারী হলেও তনুশ্রী অন্তরে পুরুষ। শুধু তাই নয়, তনুশ্রী মাদকাসক্ত বলেও দাবি রাখির।
রাখির দাবি, ‘১২ বছর আগে তনুশ্রী আমার প্রিয় বন্ধু ছিল। বিভিন্ন রেভ (পানাহারসহ রাতভর চলা নাচগান) পার্টিতে আমরা যেতাম। সেখানে তনুশ্রী প্রচুর ড্রাগ নিত। আমাকেও ড্রাগ নিতে বাধ্য করত। ও আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় খারাপভাবে হাত দিত। বলিউডে অনেক সমকামী রয়েছে। তনুশ্রীও সমকামী।’
জবাবে রাখিকেও এক হাত নিয়েছেন বঙ্গতনয়া তনুশ্রী দত্ত। রাখির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তনুশ্রী বলেছেন, তিনি মাদকাসক্ত নন। আর নিশ্চিতভাবেই সমকামীও নন তিনি। বলেছেন, রাখি ‘বিকৃতমনা’, ‘চরিত্রহীন’।
‘মা-বাবা সবসময় বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক হতে বলতেন এবং আমি সেই উপদেশ মেনে বড় হয়েছি। এ ধরনের মানুষ এড়িয়ে চলি, মনে করি, আমার জন্য ভালো হবে না। তাই এটা খুবই বিরক্তিকর, যখন রাখি সায়ন্তর মতো অসভ্য, অশিক্ষিত, নোংরা, বাজার-পড়তি, শ্রেণিহীন, চরিত্রহীন, বিকৃতমনা, সবকিছু করতে পারা মানুষটি আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল বলে দাবি করে’, বলেন ‘চকলেট’ অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত।
তনুশ্রীর দাবি, ২০০৯ সালে রাখির সঙ্গে একবার মাত্র একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাউঞ্জে আলাপ হয়েছিল। তনুশ্রী তাঁকে এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু রাখি তাঁকে ধরে ফেলেন। তনুশ্রীর আরো দাবি, তাঁকে না কি খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করার মতলবে ছিলেন রাখি।
‘সে (রাখি) আমাকে বলেছিল, আমি যদি জেসাসে বিশ্বাস না রাখি, তবে নরকে যাব। কিন্তু যখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ঠিক কোথায় স্বর্গ ও নরক অবস্থিত? তখন ধর্মান্ধ বোকাটা উত্তর দিতে পারেনি। তখন রাখি হিন্দুত্ববাদকে গালমন্দ করে, বলে মূর্তিপূজা হলো শয়তানকে পূজা। আমি খুব বিরক্ত হয়েছিলাম আর চুপ করতে বলেছিলাম’, বলেন তনুশ্রী।
‘আশিক বানায়া আপনে’ অভিনেত্রী তনুশ্রী বলেন, ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ বিতর্কের এক বছর আগে রাখি তাঁর সঙ্গে ‘শুধু বন্ধুত্বের চেষ্টাই করেনি, ধর্ম নিয়ে নানা অদ্ভুত ধারণাও মাথায় ঢুকিয়ে দিত। তনুশ্রীর দাবি, ‘রাখি সায়ন্তরা এমন মানুষ, যারা সংখ্যালঘুদের সমস্যায় পতিত করার কারণ।’ ফের রাখি কী প্রতিক্রিয়া দেন, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে!
যাহোক, শুধু নানা পাটেকারই নন, পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর বিরুদ্ধেও যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন তনুশ্রী। তাঁর অভিযোগ, ‘চকলেট’ ছবির শুটিং সেটে সবার সামনেই বিবেক তাঁকে পোশাক খুলে নাচতে বলেছিলেন।
পরে নানা পাটেকার ও বিবেক অগ্নিহোত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেন তনুশ্রী দত্ত। মামলার তদন্ত চলছে। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *