রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে নিজেরাই ককটেল মারতে পারে বিএনপি: কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট : বিএনপি তাদের নিজেদের কার্যালয়ের সামনে নিজেরাই ককটেল মেরে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছে কি না- এমন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার রাজধানীর বনানীতে সেতু ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের এমন সন্দেহের কথা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণ একটি বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত ঘটনা। এর পেছনে পলিটিক্সও কাজ করে। এখন আমি আমার অফিসের সামনে বোমা মেরে যদি বলি এটা বিরোধী দল করেছে। সেটা বলা তো খুব সহজ। বিএনপি অফিসের সামনে কারা ককটেল মেরেছে এটাও তারাই (বিএনপি) ভালো জানে।

এমন হতে পারে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে তারা নিজেরাই এ কাজ করেছে। গতকাল সোমবার বনানীর সেতু ভবনের সভাকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, আমরা অ্যাক্সেপ্টেবল এবং উইনেবল প্রার্থী দিয়েছি। সেক্ষেত্রে আগের মেয়র খারাপ কী ভালো সে প্রসঙ্গে আমি যেতে চাই না। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন জরিপের মাধ্যমে আমরা গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বেছে নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন যে, ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল নির্বাচন হবে। জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে। সেখানে হারি জিতি নাহি লাজ। ভারতের নয়া নাগরিকত্ব আইন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে সবসময় জাতীয় স্বার্থই বড়। ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব খুব গুরুত্ব দিয়ে থাকি। ভারতের সঙ্গে যেসব বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে আমরা একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো সমাধান করে ফেলবো, যোগ করেন তিনি।

পদ্মাসেতুর ২০তম স্প্যান বসছে বছরের শেষদিন আজ মঙ্গলবার। এ ছাড়া এখন থেকে প্রতি মাসে তিনটি করে স্প্যান বসবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রী বলেন, এখন থেকে প্রতি মাসে তিনটি করে স্প্যান বসলে আগামী জুলাইয়ের মধ্যে স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়ে যাবে। তবে মূল ব্রিজ চালু করতে ২০২১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

সে বছরের জুনে ব্রিজ উদ্বোধন করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। তবে এর আগেও কাজ শেষ হয়ে যেতে পারে। ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মাসেতুর কাজ সার্বিকভাবে ৭৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে মূল ব্রিজের কাজ ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং সেতু সংলগ্ন সড়কের কাজ ৬৬ শতাংশ শেষ হয়েছে। সামনের বর্ষাকালে যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে তাহলে সঠিক সময়ে পদ্মাসেতুর কাজ শেষ হবে। সেতুমন্ত্রী বলেন, জাপান সবসময় কম খরচে টেকসই কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করে দেয়। তাই তাদের সঙ্গে আমরা ভবিষ্যতেও কাজ করব। এ ছাড়া এ মুহূর্তে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চারলেনে উন্নীত করার কাজ তাদের মাধ্যমেই করা হবে।

এ বিষয়ে আমরা বেশি জোর দিচ্ছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কর্ণফুলী টানেলের কাজ ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যায় আগের মেয়র মো. সাঈদ খোকনকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ওবায়দুল কাদের। আগের মতই গতকাল সোমবার তিনি বলেন, ‘গ্রহণযোগ্য, জনপ্রিয় ও জেতার মত’ প্রার্থী দেখেই মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এখানে আগের মেয়র খারাপ কি ভালো, সে মন্তব্যে আমি যাব না। আমরা আমাদের সামনের দিকে তাকাচ্ছি।

এ নির্বাচনে জন্য আমরা গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী বেছে নিয়েছি। আর এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন জরিপ প্রতিবেদন ও পার্টির সিটি কমিটির পরামর্শও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান দলের সাধারণ সম্পাদক। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সামনে রেখে গত রোববার আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। উত্তরে বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম আবার মনোনয়ন পেলেও দক্ষিণে সাঈদ খোকনকে বদলে মনোনয়ন দেওয়া হয় ঢাকা-১০ আসনের এমপি শেখ ফজলে নূর তাপসকে। অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ছেলে খোকন এ বছর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতার কারণে সমালোচনায় ছিলেন। তার জায়গায় মনোনয়ন পাওয়া ব্যারিস্টার তাপস বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির ছোট ছেলে। তিনি বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদেরও নেতৃত্বে আছেন।

গত ২৬ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম তুলতে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে খোকন বলেছিলেন, রাজনৈতিক জীবনে তিনি ‘কঠিন সময়’ পার করছেন। তবে ভাগ্য চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পর গত রোববার তিনি শুধু বলেন, নো কমেন্টস। গতকাল সোমবার বনানীর সেতু ভবনে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নোয়াকির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে সিটি নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

এ নির্বাচনে হার-জিত নিয়ে আওয়ামী লীগ চিন্তিত নয় দাবি করে তিনি বলেন, নির্বাচনটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, প্রতিযোগিতামূলক হোক, একটা ফ্রি-ফেয়ার ইলেকশন হোক, একটা ক্রেডিবল ও একসেপ্টেবল ইলেকশন হোক, জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে, এ ধরনের একটা নির্বাচন আমরা চাই। এখানে হারি জিতি নাহি লাজ- বলে একটা কথা আছে। সিটি নির্বাচনে জয় দলের জন্য চ্যালেঞ্জ কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, চ্যালেঞ্জ প্রত্যেকটা বিষয়ই আছে। কিন্তু আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, ইলেকশন ফ্রি, ফেয়ার অ্যান্ড ক্রেডিবল হবে। আমরা মনে করি না, যে আকাশটা আমাদের ওপর ভেঙে পড়বে যদি নির্বাচনে আমাদের কোনো বিপর্যয় ঘটে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *