রাজশাহীতে প্রচারে এগিয়ে আ.লীগ, লড়ছে বিএনপিও

রাজশাহী সংবাদদাতা : একাদশ সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। কেবল মাঠের প্রচার নয়, ডিজিটাল প্রচারণাতেও নৌকার প্রার্থীরা পেছনে ফেলেছেন প্রতিদ্বন্দ্বীদের। তবে বিএনপিও প্রায় সমানতালে লড়ছে; ধীরে ধীরে সরব হচ্ছে দলটি। এতে উত্তাপ বাড়ছে ভোটের মাঠে। এরই মধ্যে রাজশাহীর অন্তত তিনটি আসনে ধানের শীষের প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ এনেছেন বিএনপির প্রার্থীরা।

এবার রাজশাহীর ছয় আসনের পাঁচটিতেই নৌকার প্রার্থী বর্তমান এমপিরা। একমাত্র নতুন মুখ রাজশাহী-৫ আসনের প্রার্থী প্রফেসর ডা. মনসুর রহমান। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এমপিরা ভোটের মাঠে রয়েছেন। দলের তৃণমূলের সঙ্গে চলা বিরোধও মিটিয়ে ফেলা হয়েছে ভোটের আগে। এখন একজোট হয়ে ভোটের প্রচারণায় নৌকার প্রার্থীরা।

উল্টো চিত্র বিএনপিতে। সর্বশেষ গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির প্রার্থীরা এলাকায় অনেকটা নিষ্ক্রিয়। এরপর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট বিএনপিকে আরও পিছিয়ে দেয়। বিভিন্ন সময় সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেমে হামলা আর মামলায় ফেরার হন বিএনপির প্রার্থীরা। নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্ন থাকায় ভোটের মাঠ গোছাতে বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। তবে ধীরে ধীরে তা কাটিয়ে উঠছে বিএনপি।

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও জেলা সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিপক্ষে এত দিন মাঠে ছিল তৃণমূলের সাত নেতার জোট। তারা এখন নৌকায় একজোট। ফলে নতুন করে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে।

শুরুতে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আমিনুল হক প্রচারণায় অনেক পিছিয়ে থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুলত্ব অনেক কমিয়ে এনেছেন। প্রচারণায় নেমেই তৃণমূল নেতাদের পাশে পেয়েছেন সাবেক এই মন্ত্রী। ফলে এলাকায় ধানের শীষের আওয়াজ বাড়ছে।

রাজশাহী-২ (সদর) আসনে মহাজোটের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশাও পাশে পেয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। আছে রাজশাহী ১৪ দল। পাশে পাচ্ছেন মেয়র লিটনকেও।

এ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুও কম যান না। বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টার পাশে রয়েছেন সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। উজ্জীবিত তৃণমূল বিএনপি।

প্রচারণায় বাদশা-মিনু সমানে সমান। ভোটের মাঠ দখলে মরিয়া দুজনই। তবে বিএনপির অভিযোগ, তাদের দমাতে বিধি ভাঙছেন নৌকার প্রার্থী। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনে নৌকার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে বিএনপি।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে আওয়ামী লীগের আয়েন উদ্দীনের সঙ্গে লড়ছেন বিএনপির নগর সম্পাদক শফিকুল হক মিলন। স্থানীয় হওয়ায় প্রচারণায় বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন এমপি আয়েন। মিলন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রয়েছেন বলে তিনিও এগিয়ে যাচ্ছেন সমান গতিতে। তবে মিলনকে ঠেকাতে আওয়ামী লীগ বিধি ভাঙছে- এমন অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

রাজশাহীÑ৪ (বাগমারা) আসনে প্রচারণায় এগিয়ে নৌকার প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। পয়সাওয়ালা এই এমপির সঙ্গে চলা তৃণমূলের বিরোধ মিটে গেছে। প্রতিদিন এলাকায় ব্যাপক শোডাউন দিচ্ছেন এনামুল হক।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু হেনাও কম যাচ্ছেন না। তার পাশে রয়েছে তৃণমূল বিএনপি। তবে মাঠ প্রশাসনের ইন্ধনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ বেপরোয়া আচরণ করছে বলে অভিযোগ আবু হেনার।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে নৌকার প্রার্থী নতুন মুখ ডা. মনসুর রহমান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায়। টানা ৩০ বছর ধরে বিনা পয়সায় এলাকার গরিব মানুষের সেবা করছেন। সব মিলিয়ে ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থায় নৌকার এই প্রার্থী।

এই আসনে ধানের শীষের হেভিওয়েট প্রার্থী নাদিম মোস্তফা। প্রায় এক যুগ পর এলাকায় ফিরে ব্যাপক শোডাউন দিয়েছেন তিনি। এলাকায় প্রতিদিন তার সরব উপস্থিতি উজ্জীবিত করেছে নেতাকর্মীদের। তবে গতকাল হাইকোর্ট রায় তার প্রার্থিতা বাতিল করেছে। এখন ধানের শীষে লড়বেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম।

রাজশাহী ৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। ক্লিন ইমেজের এই প্রার্থীর দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী নেই এই আসনে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে রয়েছেন।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদ গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে কারাবন্দি। ফলে ফাঁকা মাঠেই একরকম প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন শাহরিয়ার। চাঁদের হয়ে তার ছেলেসহ নেতাকর্মীরা মাঠে রয়েছেন। দিন দিন ভারী হচ্ছে চাঁদের পাল্লাও।

প্রচারণা সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাজশাহী ১৪ দলের সমন্বয়কারী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘গত এক দশকে আওয়ামী লীগ দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। আরও ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন থেমে যাবে, ছড়িয়ে পড়বে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ। দেশের মানুষকে বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে।’

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘গত এক দশকে স্বৈরাচারী এই সরকার মানুষের সব নাগরিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। উন্নয়নের নামে লুটপাট চালিয়েছে। অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন নেতারা। এই নির্বাচন মানুষের অধিকার ফেরানোর নির্বাচন। নির্বাচনে দেশের মানুষ ধানের শীষকেই বেছে নেবে।’

নির্বাচনী প্রচারণায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ সম্পর্কে রাজশাহীর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা পারভেজ রায়হান বলেন, ‘এ পর্যন্ত বিধি ভাঙার যে কটি অভিযোগ এসেছে প্রতিটির তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শিগগির এ নিয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ আচরণবিধি দেখভালে ২৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *