রাশিয়ার নিন্দা করেননি ট্রাম্প: আলেক্সি নাভালনি

আর্ন্তজাতিক: রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে বিষপ্রয়োগের ঘটনায় রাশিয়ার নিন্দা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। নাভালনিকে বিষ দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো প্রমাণ দেখেননি বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প, জানিয়েছে বিবিসি।

ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ অবহিত করলেও এর বদলে সাংবাদিকদের চীনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, এই দেশটি বিশ্বের জন্য রাশিয়ার চেয়েও বড় হুমকি বলে দাবি করেছেন তিনি। একটি বিষাক্ত রাসায়নিক নোভিচক নার্ভ এজেন্ট দিয়ে নাভালনির ওপর হামলা চালানো হয়েছে, এ বিষয়ে ‘সন্দেহাতীত প্রমাণ’ রয়েছে বলে নেটো ও জার্মানি দাবি করেছে। নাভালনির সমর্থকরা বলছেন, ক্রেমলিনের নির্দেশেই তাদের নেতাকে বিষ দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বিষ দেওয়ার কোনো প্রমাণ দেখেননি তিনি। “তাই প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে তা জানি না আমি। আমি মনে করি এটি দুঃখজনক, ভয়ানক, এটি হওয়া উচিত ছিল না। এখনও পর্যন্ত আমরা কোনো প্রমাণ পাইনি তবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখবো আমি,” বলেছেন ট্রাম্প।

পুতিনের সমালোচনা করা থেকেও বিরত ছিলেন তিনি, এর বদলে বেইজিং আরও বড় হুমকি সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “সবাই সবসময় রাশিয়ার কথা উল্লেখ করে যা কৌতুহলোদ্দীপক আর এতে আমি কিছু মনে করি না কিন্তু আমার মনে হয় সম্ভবত এই সময়ে চীন এমন একটি জাঁতি যাদের নিয়ে আপনাদের অনেক বেশি বলা উচিত।” দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনকারী নাভালনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক ও দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দেশটির বিরোধীদলীয় সবচেয়ে বিশিষ্ট নেতা। গত ২০ অগাস্ট রাশিয়ার একটি অভ্যন্তরীন ফ্লাইটে সাইবেরিয়ার তমস্ক থেকে রাজধানী মস্কো যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

তমস্ক বিমানবন্দরে নাভালনি চা পানের আগেই তার পানীয়তে বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা তার সমর্থকদের। সাইবেরিয়ার একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর নাভালনিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে এনে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর থেকে ওই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) কোমায় আছেন তিনি।

জার্মান সরকারের একজন মুখপাত্র বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, “জার্মানির সামরিক পরীক্ষাগারে টক্সিকোলোজি পরীক্ষায় নাভালনির দেহে নোভিচক নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগের সন্দেহাতীত প্রমাণ পাওয়া গেছে।” তারা একথা জানানোর পর থেকে রাশিয়া সরকার পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যাপক নিন্দা ও সমালোচনার মুখে পড়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *