লিটনের অন্যতম সেরা ইনিংস ৯৪: তামিম

স্পোর্টস: বাংলাদেশের হয়ে তামিম ইকবালের নিজের আছে বেশ কিছু দুর্দান্ত ইনিংস। তবে তার দেখা বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের অন্যতম সেরা ইনিংস গত বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লিটন দাসের করা ৯৪। লিটন নিজে অবশ্য ইনিংসটিতে তার নিজের চেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিচ্ছেন ওই ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানকে।

টন্টনের সেই ম্যাচে লিটন ও সাকিবের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩২১ রান তাড়া করে ৭ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটে ১৮৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন দুজন। সাকিব অপরাজিত ছিলেন ১২৪ রানে। লিটন খেলেন ৬৯ বলে অপরাজিত ৯৪ রানের ইনিংস। লিটনের জন্য ম্যাচটি ছিল বড় এক পরীক্ষা।

বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন প্রথমবার। কিন্তু খেলতে পারেননি নিজের সহজাত পজিশনে। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবার নামেন পাঁচে। সেই পরীক্ষায় উতরে গিয়েছিলেন তিনি দারুণভাবে। তামিমের নিয়মিত ফেইসবুক লাইভে শনিবার রাতে উঠল ইনিংসটির প্রসঙ্গ। এই আড্ডায় তামিমের অতিথি ছিলেন লিটন, সৌম্য সরকার ও মুমিনুল হক।

পরে যুক্ত হন তাইজুল ইসলাম। লিটনের কাছে তামিম জানতে চেয়েছিলেন, ওই দিন কী ভাবনা খেলা করছিল তার মাথায়। ম্যাচে শেষে লিটন বলেছিলেন, স্নায়ুচাপে ভুগছিলেন তিনি। সেটিই বললেন আরেকবার। “প্রথমত, নার্ভাস ছিলাম আমি। কারণ, অনেকদিন ধরেই ম্যাচ খেলছিলাম না। তারপরও বিশ্বকাপের মতো একটা জায়গা। আর পাঁচে ব্যাটিং করা. মূল জিনিস কী, যখন আপনি দলে সুযোগ পান না, যে কোনো কারণেই হোক, এরপর যখন একটা সুযোগ আসে, ওপেনিংয়ে হোক কিংবা ওয়ান ডাউনে, তখন চিন্তা হয়, আমি যেখানেই আছি, শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করব। আমার ভেতর একটা ক্ষুধা ছিল।

যেহেতু দলে সুযোগ পাচ্ছি না, এই সুযোগটা যেন কাজে লাগাতে পারি।” সেই সময় উইকেটের সঙ্গী সাকিবের কিছু কথা সাহস জুগিয়েছিল লিটনকে। “ওই পরিস্থিতিতে নামার পর অনেক নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু সাকিব ভাই নার্ভাসনেসটা দূর করে দিয়েছিলেন, কিছু কথা বলেছিলেন আমার সঙ্গে। শুরুটা আপনি আর সৌম্য ভাই অনেক ভালো করে দিয়েছিলেন, যে কারণে মনে হচ্ছিল না যে আমরা ৩২২ রান তাড়া করছি।

শুরুটা এত ভালো হওয়াতে কখনও আমাদের রান রেট ৭-৮ এর নিচে নামেনি। যে কারণে আমার কোনো চাপ মনে হয়নি। আর নন স্ট্রাইকে সাকিব ভাইয়ের মত ব্যাটসম্যান, বিশ্বকাপে যে ফর্মে ছিলেন… উনি এমন কিছু শট খেলছিলেন, যে কারণে আমার কাছে কোনো চাপ আসেনি। “সাকিব ভাই ¯্রফে একটা কথাই আমাকে বলছিলেন, ‘তুমি  স্রেফ সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক রোটেট করে খেলতে থাকো।’

আমিও চেষ্টা করছিলাম, এক-এক করে নেওয়ার জন্য, নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য। যখন খেলাটা একবারে আমাদের ক্লোজে চলে আসে, তখন আমি আমার ন্যাচারাল খেলা খেলতে পারছি। তবে আমার কাছে মনে হয়, ওই ইনিংসে আমার যত না কৃতিত্ব, তার চেয়ে বেশি কৃতিত্ব সাকিব ভাইয়ের। কারণ, তার কিছু কথা, পাশাপাশি উনি যেভাবে বোলারদের খেলছিলেন, সেই জিনিসটা আমাকে নন স্ট্রাইকে অনেক সাহায্য করেছে।”

এরপরই বাংলাদেশের বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইনিংসটিকে বর্ণনা করলেন তার দেখা অন্যতম সেরা ইনিংস হিসেবে। “সত্যি বলতে আমরা যখন বাইরে থেকে দেখছিলাম, আমার কাছে মনে হচ্ছিল যতটুকু চাপ ছিল, ওটা পুরোটা তুই শেষ করে দিয়েছিস।

বিশেষ করে শেষটা ছিল দুর্দান্ত, তুই তিন বলে তিনটা ছয় মারলি গ্যাব্রিয়েলকে। আমার কাছে মনে হয়, আমার দেখা ওয়ান অব দা বেস্ট ইনিংস। এটা শুধু তোর না, যে কোনো বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের। আমি এই ইনিংসকে অনেক ওপরে রাখি।”

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *