শাক সবজি মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দিচ্ছেন দেশের সর্বকনিষ্ট উপজেলা চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনার সংক্রমন রোধে মানুষকে হাট বাজারে যেতে নিরুৎসাহী করতে উপজেলা পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান তানভীর ইসলাম কাঁচা তরকারি ও শাক সবজি বাড়ী বাড়ী পৌছে দিচ্ছেন। এ জন্য তিনি প্রতিদিন একটি ট্রাকে করে শাকসবজি নিয়ে গৃহবন্দি মানুষের বাড়ি বাড়ি এ সব সবজি পৌছে দিচ্ছেন। এতে দারুন খুশি অসহায় মানুষগুলো। চেয়ারম্যান তানভীর ইসলাম সমকাল‘কে বলেন, ‘চাল তো তিনিসহ অনেকেই দিচ্ছেন, সাথে মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় তার এমন উদ্যোগ। তিনি বলেন, শাকসবজিসহ অন্য নিত্যপন্য কিনতে মানুষকে তো হাট বাজারে যেতে হচ্ছে। মানুষকে তো বাঁচাতে হবে।

আটঘরিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে কাঁচা তরকারি ও শাক সবজির ট্রাক নিয়ে ছুটে চলেছেন দেশের সর্বকনিষ্ট উপজেলা চেয়ারম্যান তানভীর ইসলাম। সরকারি ও বেসরকারিভাবে করোনায় গৃহবন্দি মানুষদের মাঝে অনেকেই চাল ডাল তেল লবন দিচ্ছেন। এরপরও এসব অসহায় মানুষ যাচ্ছেন হাট বাজারে, বাড়ছে ভীড়। মানুষ মূলত : শাক সবজি কখনও কখনও কাঁচা তরকারি কেনার জন্যই ছুটে যাচ্ছেন সেখানে। মানুষ যাতে বাজারমূখী না হয় এবং সামাজিকভাবে যেন ভিড় না বাড়ে এজন্যই তার এমন চেষ্টা।

সোমবার আটঘরিয়া উপজেলার সিংঘরিয়া,কয়রাবাড়ি,পুস্তিগাছা, গোপালপুর, কাজিরহাটসহ বিভিন্ন গ্রামে গ্রামের অন্তত ৬‘শ বাড়ীতে এই কাঁচা তরকারি ও শাক সবজি পৌছে দেন তিনি। সামাজিক দুরত্ব রেখে বিতরণ করা হচ্ছে এসব খাবার সামগ্রী। তার বক্তব্য মানুষ যেন কোনভাবেই হাটবাজারে গিয়ে ভিড় না করে। হ্যান্ডমাইকে ঘোষনা দিয়ে মাঠে নেমে গেছেন তরুন এই চেয়ারম্যান। বাড়ির ওপরে চেয়ারম্যানের এমন শাক সবজি ও তরকারির গাড়ি দেখে খুশি হয়েছে গ্রামের অসহায় সরলপ্রাণ মানুষ। তাদেরকে একটা প্যাকেটে ভরে দেওয়া হচ্ছে আলু, বেগুন, পেঁয়াজ, মরিচ, ঢেরশ, করল্লা, মিষ্টি কুমরা,লাউ, পেপে,পালং শাকসহ নানা ধরনের সবজি।

এসব পেয়ে তাদের অনুভুতিতে গ্রামের অসহায় মানুষরা জানান, চেয়ারম্যানের এমন উদ্যোগে তারা আনন্দিত হয়েছেন। এমন বিপদের মুহুর্তে তাদের পাশে এই তরকারির গাড়ি আশ্বস্ত করেছে তাদের।
পুস্তিগাছা গ্রামের ছমিরুন খাতুন বলেন, ‘তার পরিবারের ৮জন মানুষ খানেওয়ালা। সবাই ঘরে বইস্যা। কাম নাই। চেয়ারম্যান ১০ কেজি চাইল, ডাইল, লবন, ত্যাল দিচ্ছে। কিন্তু খামু কি দিয়া ? শাক সবজি পাওয়ায় ম্যালা উপকার অইছে’।

আটঘরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান তানভীর ইসলাম জানান, মানুষের ঘরে চাল আছে। সরকারী ও বেসরকারি পর্যায়ে অনেকেই চাল দিচ্ছেন। কিন্তু একভাবে তো খালি ভাত খাওয়া যায় না। তাদের ভেতরে কাজ করে কিছু শাক সবজি বা তরকারি হলে ভালো হতো। এজন্যই অনেকেই ছুটে যাচ্ছেন হাট বাজারে। বাড়ছে ভীড়।

সামাজিক দুরত্ব বজায় থাকছে না কোন কোন সময়ে। এজন্যই তিনি হাট বাজারে মানুষকে যেতে নিরুৎসাহী করার লক্ষ্যে এই কার্যক্রম শুরু করেছেন। প্রতিটি গ্রামের মানুষের কাছে তিনি এটি পৌছে দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। সাথে এও বলেন, আমার এই চেষ্টা দেখে যদি আরো অনেকে এমন করে তা হলে তো ভালো হবে অসহায় মানুষের জন্য।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *