শেরিফের নজর আরও অনেক দূরে

স্পোর্টস: ক্লাবের ইতিহাসে দুই যুগের পথচলায় প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ পেয়েই অবিশ্বাস্য এক গল্পের জন্ম দিয়েছে শেরিফ তিরাসপুল। স্বপ্নময় পথচলায় তারা বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে। রেকর্ড ১৩ বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের আঙিনা থেকে মলডোভার ক্লাবটির জয় ছিনিয়ে নেওয়ার গল্পটা যেন এক রূপকথা! সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে মঙ্গলবার রাতে পুরোটা সময় আক্রমণে আধিপত্য করেও পার্থক্য গড়ে দিতে পারেনি রিয়াল। দুই অর্ধের দুই গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে চমক জাগায় ১৯৯৭ সালে জন্ম হওয়া ক্লাব শেরিফের। ইয়াসুরবেক ইয়াখশিবোয়েভের গোলে শেরিফ এগিয়ে যাওয়ার পর সমতা ফেরান করিম বেনজেমা। শেষ সময়ে সেবাস্তিয়ান থিলের গোলে তিন ধাপের বাছাইপর্ব ও প্লে-অফ পেরিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল পর্বে জায়গা পাওয়া দলটি। ফুটবল পরাশক্তি রিয়ালের মাঠে এমন অবিশ্বাস্য জয়ের পর শেরিফ ডিফেন্ডার গুস্তাভো দুলান্তোর মনে হচ্চে, যেন স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। “বের্নাবেউয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখতাম। আমি সবসময় মাদ্রিদকে অনুসরণ করেছি, তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সবচেয়ে সফল দল। তাই তাদেরকে তাদেরই মাঠে হারানো অনেক বড় অর্জন।” প্রথম ম্যাচ শাখতার দোনেৎস্ককে ২-০ গোলে হারানোর পর রিয়ালের মাঠে এই জয়। দুই রাউন্ড শেষে অবিশ্বাস্যভাবে ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে তারা। টানা দুই জয়ে তাদের পয়েন্ট ৬। ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে রিয়াল। ইউরোপ সেরার মঞ্চে অভিষেকে এমন দুই জয়ের পরও আনন্দে আত্মহারা হচ্ছেন না দুলান্তো ও তার সতীর্থরা। আরও অনেকটা পথ এগোনোর স্বপ্ন দেখছেন তারা। “এখনও অনেকটা পথ যেতে হবে এবং আমরা নির্ভার হতে পারি না। কারণ ফুটবলে কোনো যুক্তি খাটে না, যেমনটা ফলেই দেখা যাচ্ছে। এখানে আমরা সাহসী ফুটবল খেলতে এসেছি, কিন্তু এখন আমরা কেবল আগামী ম্যাচেই মনযোগ দিতে পারি।” ম্যাচে প্রায় ৭৫ শতাংশ সময বল দখলে রেখে ৩১টি শট নেয় রিয়াল, যার ১১টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে ঘর সামলাতে ব্যস্ত শেরিফ শট নিতে পারে মাত্র চারটি, যার তিনটি লক্ষ্যে; আর তাতেই বাজিমাত। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আগামী ম্যাচে ইন্টার মিলানের মুখোমুখি হবে শেরিফ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *