সান্তা ক্লজ সেজে শিশুদের মাঝে ওবামা

ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অবস্থান ছিল অনেকটা খ্রিস্ট ধর্মের পৌরাণিক চরিত্র সান্তা ক্লজের মতোই। বিশেষত এশীয়সহ অশ্বেতাঙ্গরা তাকে সান্তার মতোই ‘শিশুদের রক্ষাকর্তা’ ভাবত। আলোকচিত্রীর ক্যামেরার সীমাবদ্ধ ফ্রেমে বারংবার ধরা দিয়েছে শিশুদের প্রতি তার হৃদয় থেকে উৎসারিত সীমাহীন ভালোবাসার নজির।

দায়িত্ব ছাড়লেই কী করে সেই ভালোবাসা ছাড়বেন তিনি? এবার বড়দিনের আগ মুহূর্তে তাই ওবামার দেখা মিললো শিশুদের হাসপাতালে। খানিকটা সান্তার বেশেই চিকিৎসাধীন শিশুদের কাছে উপহার নিয়ে হাজির তিনি! এবারই প্রথম নয় কিন্তু! গত বড়দিন উপলক্ষেও সান্তা সেজেছিলেন ওবামা। গিয়েছিলেন ওয়াশিংটনের একটি বয়েজ অ্যান্ড গার্লস ক্লাবের শিশুদের কাছে। আর সব প্রেসিডেন্টের মতো কান্না-হাসি-আনন্দের সহজাত অভিব্যক্তি লুকিয়ে রাখতে পারতেন না যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট ওবামা। সহজাত আনন্দময় অনুভূতি তাকে সবসময় টেনে নিয়ে যেত শিশুদের কাছে। খেলা-মজা করাসহ বিভিন্ন সময়ে শিশুদের সঙ্গে তার নানান ধারার অভিব্যক্তি আচমকা ধরা পড়েছে ক্যামেরায়।

বারবারই শিশুদের প্রতি তার অনুভূতির সাক্ষ্য হয়েছে সেইসব ছবি। কখনও হোয়াইট হাউসের লনে শিশুদের সঙ্গে দৌড়াতে দেখা গেছে তাকে, কখনও চলার পথে শিশু দেখলেই হাই ফাইভ দিয়েছেন, কখনও বাস্কেটবল খেলেছেন, কখনও আবার রেস্টুরেন্টে শিশুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খেয়েছেন খাবার। প্রেসিডেন্টের ভারিক্কিময় অভিব্যক্তি ছেড়ে শিশুদের সঙ্গে যেন শিশুই হয়ে উঠতেন তিনি। কখনও তাদের সঙ্গে খেলেছেন, কখনও আবার এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে বসে শিশুর সঙ্গে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছেন। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছেড়েছেন প্রায় দুই বছর হলো। কিন্তু শিশুদের ছাড়বেন কী করে? ছাড়তে না পারার এক উদাহরণ তুলে এনেছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। তারা খবর দিয়েছে, সান্তার বেশে দেখা গেছে তাকে!

(১৯ ডিসেম্বর) মাথায় হ্যাট আর পিঠে বস্তাভর্তি উপহার নিয়ে তিনি হাজির হয়েছিলেন চিলড্রেন্স ন্যাশনাল হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন ছোট ছোট শিশুকে জড়িয়ে ধরে আদর করেছেন। তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন উপহার। স্বভাবতই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছিল শিশুরাও। হাসপাতালের কর্মীরাও বাদ যায়নি। ওবামার জন্য ছিল তাদের হৃদয়জাত অভিনন্দন। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে আনন্দময় সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও ছেড়েছেন ওবামা।

অভিবাদন জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্মীদের। লিখেছেন, ‘চমৎকার সব বাচ্চা আর তাদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে। দুই মেয়ের বাবা হিসেবে আমি টের পেয়েছি, সেখানকার নার্স, কর্মী, চিকিৎসক ও অন্য মানুষরা কতোটা খেয়াল রাখছে তাদের। এটাকেই সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছে আমার।’ চিলড্রেন’স ন্যাশনাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ভীষণ খুশি ওবামাকে পেয়ে। টুইটারে মার্কিন ইতিহাসের সবথেকে ব্যতিক্রমী প্রেসিডেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে তারা। লিখেছে, ‘চিকিৎসাধীন শিশুদের একটা দিনকে আলোয় ভরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ, প্রিয় ওবামা।

আপনার আকস্মিক উপস্থিতি আমাদের অভিভূত করেছে। সব শিশুর মুখে এনেছে আনন্দের অভিব্যক্তি। ওরা আপনার সঙ্গ উপভোগ করেছে। আপনার দেওয়া উপহার পেয়ে ওরা দারুণ খুশি।’ ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসেন ওবামা। ২০১২ সালে দ্বিতীয় দফায়ও বিজয়ী হন। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন তিনি। নিজ দেশেই নয় কেবল, বিদেশের মাটিতেও শিশুদের সঙ্গে একইরকম করে মজা করেছেন ওবামা। ভারত সফরে তাকে শিশুদের সঙ্গে নাচতেও দেখা গেছে।

ওবামার ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায় শিশুদের সঙ্গে তিনি কতটা প্রাণবন্ত। শিশুরাও তার সঙ্গ খুব পছন্দ করে। ওবামাকে ঘিরে থাকা শিশুদের দেখলেই তাদের অভিব্যক্তিতে অপরিসীম স্বস্তি আর আনন্দের চিহ্ন ধরা পড়ে। হয়তো এজন্যই ক্যামেরার স্থির চিত্রে কোলে ঘুমিয়ে পড়া শিশুকে পরম যত্নে আগলে রাখা এক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ধরা দিতেন!

তার মেয়াদ ফুরোবার এক বছর আগে থেকেই কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিল এক মার্কিন শিশু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সে ভিডিও দেখে ওই শিশুকে সান্ত¡না দিয়েছিলেন ওবামা।

ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, হোয়াইট হাউস ছেড়ে গেলেও শিশুরা তাদের মাঝে ঠিকই খুঁজে পাবে তাকে। কথা রেখেছেন ওবামা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *