সিটি নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা কম: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ বা পুনর্বিন্যাস হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে কাদের এ কথা বলেন। সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভা রদবদলের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি তো আপনাদের আগেই বলেছি- এটা রুটিন বিষয়, প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে আমার মনে হয় না কোনও ধরনের এক্সপানশন বা রিশাফলিং এসব কিছু হবে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম। আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

দলে পদ পেয়েছেন আওয়ামী লীগের এমন কয়েকজন নেতা মন্ত্রিসভার সদস্য, তাদের ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত আসতে পারে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, সেটাও প্রধানমন্ত্রী বলতে পারবেন। তিনি যেটা ভালো মনে করবেন সেটাই হবে, দ্যাট ইজ ফাইনাল। আমরা সবাই তার সিদ্ধান্ত মেনে নেব। তিনি যদি আমাকে বলেন ছেড়ে দাও, আমি ছেড়ে দেব। এটা কোনও বিষয় নয়। কোনও কোনো মন্ত্রীর দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের বলেন, আমাদের জবাবদিহিতা হচ্ছে সার্বিকভাবে জনগণের কাছে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দায়বদ্ধ। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের পারফরমেন্স তার হাতে আছে, বিচার বিশ্লেষণ তিনিই করছেন।আপনারা জানেন ১০ জন সিনিয়র সচিব অলরেডি বিদায় নিয়েছেন, নতুন ১০ জন এসেছেন। এদের বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সবার পারফরমেন্সের বিষয়টি দেখছেন। পারফরমেন্স অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন হয়, পরিবর্তন হয়। যখন পরিবর্তন হবে তখন আপনি বুঝতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী কোনও কোন মন্ত্রণালয়ের কাজকে ভালভাবে দেখছেন, আর কোথায় পারফরমেন্স সঠিক হচ্ছে না। এগুলো তো বিচার বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নেবেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ওবায়দুল কাদের মন্ত্রিসভায় তার নতুন সহকর্মীদের প্রতি সমর্থনও ব্যক্ত করেন। নতুন মন্ত্রীরা খারপ করছে না, প্রথম আসলে একটু অসুবিধা তো হয়, সচিবরা তো পারদর্শী তারা কাজগুলো বোঝেন, নতুন কেউ মন্ত্রী হলে বুঝতে বুঝতে এক বছর চলে যায়। সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কিছু কিছু বিষয় সহনীয়ভাবে দেখছি, আইনের বাস্তবায়ন চলছে, আমাদের জনবলের সংকট আছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলেছি, বর্তমান সংকট মোকাবেলায় জনবল যথেষ্ট না। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন, যেভাবে আমেরিকা ও ইরান মুখোমুখি অবস্থানেৃ বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা, এটাতো আমরা এড়াতে পারব না। তেলের দাম বাড়লে তার প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশেও আসবে। আমরা চাই তারা যুদ্ধ থেকে সরে আসুক এবং আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সামাধন করুক।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা তার দলের লোকেরা যা বলে চিকিৎসকদের স্টেটমেন্টের সাথে মিল নেই। এখানে চিকিৎসার ব্যাপার চিকিৎসকদের, যত আপন লোকই হয়, চিকিৎসার কি বুঝবে। চিকিৎসকদের যে বোর্ড সেখানে বিএনপির লোকও আছে। তারা তো বলছে না তার শারীরিক অবস্থা অতটা খারাপ। খালেদা জিয়ার বার্ধক্যের কারণে একজন যুবকের মতো থাকার কথা না। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। আমাদের কাছে মনে হয় এ বিষয় নিয়ে বিএনপি যতটা রাজনীতি করছে শারীরিক অবস্থা ততটা খারাপ নয়। বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করছে এবং রাজনীতিক ইস্যু খোঁজার চেষ্টা করছে।

পরিধেয় পোশাক নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমার যত দামি পোশাক, এগুলো আমার কেনা নয়। আমি এগুলো উপহার পাই। হয়তো আমাকে অনেকে ভালোবাসে, আমার অনেক কর্মী আছে যাঁরা বিদেশে থাকে। তারা দেশে আসার সময় একটা স্যুট নিয়ে আসে। এই তো, গতকাল সিঙ্গাপুর থেকে আমার জন্য তিনটা কটি বানিয়ে এনেছে। এখন আপনি যদি নিয়ে এসে আমাকে গিফট করেন, তা হলে আমি কী করবো! সুইডেনভিত্তিক অনলাইন নেটত্রা একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলেছিল, ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের যে দামি সাতটি ঘড়ি ব্যবহার করেন তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আল জাজিরায় গত ২ জানুয়ারি প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশে নেটত্রাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিষয়টি আজই প্রথম শুনলাম। কিন্তু আমার যত ঘড়ি আছে, একটাও আমার নিজের পয়সা দিয়ে কেনা নয়। আপনি যদি আমাকে উপহার দেন, তা হলে আমি কী করবো? আপনি বিদেশে গেলেন, ভালোবেসে আমাকে একটি ঘড়ি দিলেন, এটা আমি নিলাম। সেতুমন্ত্রী বলেন, উপহারের সঙ্গে সড়কের কোনও সম্পর্ক নেই। আমার সঙ্গে কোনও কন্ট্রাক্টরের বৈঠকও হয় না। আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবো, তাদের এখানে বসতেও দিই না। যেটা হতো অতীতে, এখন হয় না।

তিনি বলেন, আমার এখানে কোনও প্রমোশনের জন্য তদবির হয় না। পরবর্তী চিফ ইঞ্জিনিয়ার যিনি হবেন, তার মাত্র ১০ দিন সময় আছে অবসরে যাওয়ার। তাকেও চিফ ইঞ্জিনিয়ার বানিয়েছি কয়েকদিন আগে। সেখানে ১০ দিন পর নতুন লোক আসবে। আগে তো চিফ ইঞ্জিনিয়ার পদে যাওয়া মানে বিশাল ব্যাপার। এসব তো আপনারা শুনতেন, এগুলো অজানা থাকতো না। আর কন্ট্রাক্টররা নির্বাচনের সময় একটা অ্যামাউন্ট দিতে চেয়েছিল। আমি সরাসরি না করে দিয়েছি। আমাকে নির্বাচনের জন্য টাকা প্রধানমন্ত্রী নিজে দিয়েছেন। আমার কারও থেকে টাকা নিতে হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলৎ অস্থিরতায় সরকার উদ্বিগ্ন বলে জানান ওবায়দুল কাদের। সম্প্রতি ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই ঘটনায় সরকার উদ্বিগ্ন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা যুদ্ধ চাই না। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা উভয়পক্ষের সরকারকে আহ্বান জানাবো তারা যেন এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ থেকে সরে আসে। এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, তারপরেও যদি যুদ্ধ লেগে যায়, তা হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যা থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়। এই ধাক্কা বাংলাদেশেও লাগবে। সে ক্ষেত্রে ইরান, ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের সেখানকার দূতাবাসের মাধ্যমে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

এসময় তিনি আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন বিষয়ে ইসির মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনও প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে না। আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে আমরা অত্যন্ত সচেতন। নির্বাচন কীভাবে পরিচালনা করতে হয় তা আমরা জানি। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি কীভাবে পরিচালনা করতে হয় তাও আমরা জানি। আমাদের দলীয় এমপিরা নির্বাচনে কোথাও কোনও প্রভাব ফেলছে না। তারা নির্বাচন পরিচালনার পরামর্শ দিচ্ছে মাত্র। সিটি নির্বাচনে দলীয় বিদ্রোহী কমিশনার প্রার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি, আজকের দিনটি দেখবো। তাদের বিষয়ে এরপরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *