সীমান্ত সংঘর্ষ: শান্তি চেয়েও একে অপরকে দুষল চীন-ভারত

বিদেশ : লাদাখ সীমান্তে সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর চীন এবং ভারত উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি ফেরাতে রাজি হলেও একে অপরকে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করতে ছাড়েনি। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শংকর ভারতের অংশে একটি কাঠামো স্থাপনের চেষ্টা চালানোর জন্য চীনকে দোষারোপ করেন। ওদিকে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ভারতকে দোষারোপ করে বলেন, তাদের সেনারাই আগে হামলা চালিয়ে উস্কানি দিয়েছে।

এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টিভিতে এক ভাষণে বলেন, “আমরা কখনও কাউকে উস্কানি দেই না। ভারত শান্তি চায় এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে কেউ প্ররোচনা দিলে, যে কোনও পরিস্থিতিতে এর উপযুক্ত জবাব দিতেও তারা প্রস্তুত।’’ অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ানের ভাষ্য, “ভারতীয় সেনারা লাইন পার হয়েছে, অবৈধভাবে একাজ করে তারা উস্কানি দিয়েছে এবং চীনা সেনাদের আক্রমণ করেছে।

এতেই দুপক্ষে মারামারি শুরু হয়। যার ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।” তবে সীমান্তে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল এবং নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে বলে জানান তিনি। সোমবার লাদাখে ভারত-চীন সীমান্তে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ ভারতীয় সেনা নিহতের ঘটনার পর থেকেই দুই দেশ একে অপরকে দোষারোপ করছে। এরইমধ্যে বুধবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শংকরের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র ফোনালাপ হয়।

এতে চীন এবং ভারত দুপক্ষই সীমান্তে শান্তি ফেরাতে একমত হয়েছে বলে জানায় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। ফোনে দুপক্ষের উত্তেজনা প্রশমনে এই মতৈক্যের পরই চীনকে দোষ দিয়ে সরকারি বিববৃতি দিয়েছে ভারত। চীনের সঙ্গে ফোনালাপের পর দেওয়া ভারতের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ‘লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কনট্রোল’ (এলএসি) এর ভারতীয় অংশে চীনের সেনারা একটি কাঠামো স্থাপনের চেষ্টা চালিয়েছিল। চীন পূর্বপরিকল্পনা করে সেই পরিকল্পনামাফিক একাজ করছিল।

তাদের এ কর্মকা-ের কারণেই সহিংসতা এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যার জন্য তারাই প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। দায় চীনের হওয়ায় তাদেরকেই তা শুধরানোর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে ভারত দাবি করেছে। তাছাড়া, কোনো পক্ষই আর ঝামেলা বাড়ার মতো কোনো কাজ করবে না বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। চীন এর পাল্টায় ভারতের কথার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র উদ্ধৃতি দিয়ে চীনের বিবৃতিতে ভারতের কাছে সংঘর্ষের ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করার দাবি জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে আবারো একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেজন্য সব ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকা- ভারতকে বন্ধ করতে বলেছে চীন। “দুপক্ষকেই আলোচনার মধ্য দিয়ে সমস্যা সমাধান করতে হবে এবং সীমান্তকে নিরাপদ ও শান্ত রাখতে হবে”, বলা হয়েছে বিবৃতিতে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *