সুজানগরে আওয়ামীলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাড়ি-ঘর ভাংচুর ; আহত ১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : পাবনার সুজানগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বর্ষ উদযাপন কমিটি করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও বাড়ি-ঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে জেলার সুজানগর উপজেলার আহমেদপুর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত ও ১০/১২টি বাড়ি ভাংচুরের পর লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্থদের।

পাবনার আমিনপুর থানার উপ-পরিদর্শক মফিজুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গত শনিবার সন্ধ্যায় আহমেদপুর ইউনিয়নের বিরাহীমপুর মীর্জা আব্দুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় আওয়ামীলীগ এক বর্ধিত সভার আয়োজন করে। সভায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বাবু গ্রুপ এবং আব্দুর রশিদ গ্রুপের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব লাঞ্চিত হয়।

এরই জের ধরে রোববার দুপুর দেড়টার দিকে বাবু গ্রুপের লোকজন রশিদ গ্রপের ওপর হামলা চালিয়ে উপর্যুপরি মারপিট দেয়। এতে রশিদসহ তার গ্রুপের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। এ সময় হামলাকারীরা রশিদ পক্ষের লোকজনের প্রায় ১০/১২টি বাড়ি-ঘর ভাংচুর এবং লুটপাট চালায় বলে দাবী ক্ষতিগ্রস্থ মজিদের স্ত্রী আফরোজা খাতুনের।

ক্ষতিগ্রস্থ দেলোয়ারের স্ত্রী শাহানাজ খাতুন অভিযোগ করেন, রশিদ গ্রুপের সমর্থক হওয়ায় আমার স্বামী দেলোয়ার হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাঁত ঘরে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ১০টি তাঁতের সুতার রিম কেটে নষ্ট করে দেয় সন্ত্রাসীরা। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।

এ বিষয়ে স্থানীয় আ’লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বাবু বলেন, আমি বা আমার লোকজন হামলা করে নাই। উল্টো রশিদ গ্রুপের লোকজন হামলা চালিয়ে আমার ৪জন লোককে মারপিট করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এই ঘটনায় আব্দুর রশিদের বাড়ি গিয়ে ভাংচুর দেখা যায় এবং উপস্থিত লোকজন বলেন, রশিদ চিকিৎসার জন্যে হাসপাতালে আছেন। তবে কোন হাসপাতালে আছেন কেউই বলতে পারেন নাই।

রশিদ গ্রুপের নেতৃত্ব দেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সুজানগর পৌর মেয়র আব্দুল ওহাব এবং বাবু গ্রুপের নেতৃত্ব দেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ. লীগের সাধারন সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহিন বলেন, আমি ওই সভায় উপস্থিত ছিলাম না। তবে নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে যেটুকু শুনেছি তাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দায়িত্বশীল আচরণ করেন নাই। এই ঘঁনার সাথে আমার লোকজনের সম্পৃক্ততা নেই।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনের লোকজন উত্তেজিত হয়ে মঞ্চে চেয়ার ছুড়ে মারেন। তারই জের ধরে রবিবার দলের ত্যাগী লোকজনের বাড়িঘর ভাংচুর ও হামলা চালিয়েছেন। চেয়ারম্যান শাহিন এগুলি করাচ্ছেন। আমার লোকজনকে মারপিট করে পুলিশ দিয়েও হয়রানী করাচ্ছেন। সব সময় এমপি তাদের সাথে আছেন বলে উদ্ধত্য আচরণ করেন, যা কখনোই কাম্য নয়। পরে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেণে আসে এবং কমিটি গঠন স্থগিত হয়ে যায়।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবিরের মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

মিনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোমিনুল ইসলাম পিপিএম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *