সুজানগরে আওয়ামীলীগ নেতার মুখে আসামির মিষ্টির খাওয়ার ছবি ভাইরাল !

পিপ (পাবনা) : দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাবনার সুজানগরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন সবুজ হোসেন। প্রায় দুই সপ্তাহ হতে চললেও পুলিশ ওই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। হত্যার পরদিনই সবুজের ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৩০-৪০ জনের নামে হত্যা মামলা করেন।
ভায়না ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে গত ৮ নভেম্বর আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আমিন উদ্দিনের সমর্থকদের হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ওমর ফারুকের সমর্থক সবুজ হোসেন (৩২) আহত হন। পরদিন তার মৃত্যু হয়। তিনি সুজানগর উপজেলার চলনা গ্রামের হাচেন আলীর ছেলে। সবুজ ভায়না ইউনিয়ন যুবলীগের কর্মী ছিলেন দাবি করে ওমর ফারুক জানান, প্রশাসনের ছত্রছায়ায় পাবনার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা এই হত্যাকান্ড ঘটালেও রহস্যজনক কারণে এখনও কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি; বরং তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং নেতাদের মিষ্টি খাওয়াচ্ছে।
সবুজ হত্যায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তারা স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী-সমর্থক বলে জানা গেছে। সেলিম হোসেন নামের এক আসামিকে নিয়ে মেম্বার পদে বিজয়ী প্রার্থী রইচ উদ্দিন উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আবদুল ওহাবকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন- এমন ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ আছে, আসামিরা রইচ উদ্দিনের ছত্রছায়ায় এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এ ঘটনায় আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আমিন উদ্দিন বলেন, সবুজ একসময় আমার সমর্থক ছিলেন। এখন এটি নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। সুজানগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল আলম বলেন, আসামি ধরতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। তারা পালিয়ে থাকায় গ্রেফতার সম্ভব হয়নি। শিগগিরই আসামিদের গ্রেফতার করা হবে বলে তিনি জানান।
ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুজানগরের ১০টি ইউনিয়নে ব্যাপক সহিংস ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বেশকিছু বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। এসব ঘটনায় ৯টি মামলা হলেও কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি।
এদিকে, গত ১১ নভেম্বর নির্বাচনের দিন প্রকাশ্যে ভোট কেটে নেওয়া, জাল ভোট দেওয়া, কেন্দ্র থেকে প্রতিপক্ষের এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ নানা অনিয়ম ও কারচুপির ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে ৬৬ জনকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, পাবনার সুজানগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের ১০ জন, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী ২০ জনসহ মোট ৩৬ জন চেয়ারম্যন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং ৮টিতে আওয়ামীলীগ এবং ২টিতে স্বতন্ত্র (আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী জয়লাভ করে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *