সুজানগরে জলাশয়ে মাছধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ গুলাগুলিসহ আহত ১৮

জেলা প্রতিনিধি, পাবনা : পাবনা সুজানগর উপজেলার আমিনপুর থানাধীন গাজনার বিলের জলাশয়ের মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রায় ১৮জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

রবিবার দুপুরের দিকে উপজেলার রানীনগর ইউনিয়নে ভাটিকয়া গ্রামে জলাশয়ের ও জমির মালিকেরা কাঠা দিয়ে মাছ ধরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেলো। এমন সময় স্থানীয় রানী নগর ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতিসহ তার সমর্থকেরা ভাটিকয়া গ্রামের একজন মাছ ধরা জেলেকে আটকে রারেখে মারপিট করে। এমন খবরের ভিত্তিতে স্থানীয় গ্রামবাসিরা তাদের উদ্ধার জন্য গেলে স্থানীয় যুবলীগনেতা শাহীন তার দুই ভাই সাইদুর ও শরিফুল তাদের সমর্থকদের নিয়ে গ্রামবাসীর উপর হামলা চালিয়ে গুলি বর্ষন করে। এই ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন গ্রæপের প্রায়  ২০ জন সমর্থক গুলিবিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে।

হাসপাতালে তালিকা ভুক্ত ১৮জনের শরিরের গুলি বিদ্ধ অবস্থায় ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৬জন গুরুত্ব আহত হয়েছে। আর বাকীরা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন করে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

ঘটনায় গুরুত্বর আহতরা হলেন, রানীনগর উইনিয়নের ভাটিকরা গ্রামের শাকির সরদার, সেলিম সরদার, রাজীব খান, উজ্জল বিশ্বাস,জহির বিশ্বাসও রাকিব মোল্লা। এরা প্রত্যেকেই পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তাদের সকলে বাড়ি একই গ্রামে। এই ঘটনায় ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনা স্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় তদন্তসহ মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

তবে এই ঘটনায় আহত গুলিবিদ্ধ গ্রামবাসীরা জানান সুজানর  উপজেলার আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আব্দুল ওহাবের সমর্থকেরা এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত হামলাকারীদের অতিদ্রæত আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনায় পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতিসহ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

পাবনা জেলারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহেদী হাসান রুমী বলেন, রবিবার দুপরের পরে পাবনা জেনারে হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কিছু রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয় জনের অবস্থা বেশ গুরুত্বর। আমরা মোট ১৮ জনের শরীরর থেকে গুলি বের করেছি। সকলে বর্তমানে ভালো আছে।

ঘটনার বিষয়ে আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ মোজাম্মের হক বলেন, স্থানীয় দুইপক্ষের মধ্যে জলাশয়ের মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা হয়েছে। একপক্ষ অপর পক্ষের উপর গুলি চালিয়েছে। এই বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে মামলা হবে। তবে আহত পক্ষের কেউ এখনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি। ঘটনা স্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *