সুজানগরে বণিক সমিতির দুই পক্ষের সংঘর্ষ আহত-২০

জেলা প্রতিনিধি, পাবনা : পাবনা সুজানগর উপজেলার আহম্মেপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর এলাকায় বাজার বনিক সমিতির অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দ্ইু পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কম পক্ষে ২০জন আহত হয়েছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের ৯জন গুরুত্বর আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য পাবনা জেনারেল  হাসপাতালে  ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে চর গোবন্দিপুর বাজারের বাজার বনিক সমিতির সভাপতি আশকার প্রামানিক বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সমিতির সাধারন সদস্যরা বাজারে একত্রীত হয়। এসময় সমিতির সভাপতি গ্রæপের সদস্য দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে বাজারে উপস্থিত সাধারন  সদস্যদের উপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন সমিতির সাধারন সদস্যরা।

তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজার বনিক সমিতির সভাপতি আশকার প্রামানিক সমিতির থেকে প্রায় ২১ লক্ষ টাকা নিয়ম বহিরভুত ভাবে তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এসময় সাধারন সদস্যরা হিসাব চাইলে সময় ক্ষেপন করে সভাপতি। আজ সমিতির সাধারন সদস্যরা একত্রিত হয়ে সমিতির অফিসে গেলে সভাপতির সন্ত্রাসী বাহিনী সভাপতির নির্দেশে তাদের উপর হামলা চালায়। এই ঘটনায় চর গোবিন্দুপর এলাকার বাজার সমিতির সদস্য মোঃ মনছুর আলম(৪০), মোঃ ফয়সাল আহম্মেদ(৩০), আলাউদ্দিন প্রামানিক ও মোঃ স্বপন প্রামানিকসহ নয়জন গুরুত্বর আহত হয়। পরে ঘটনা স্থলে পুলিশ গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এই ঘটনায় আহদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার  জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনায় সমিতির সভাপতি আশকার প্রামানিক বলেন, সমিতির ৫০ লক্ষ টাকা ছিলো। সকল অর্থ সদস্যদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। কিছু অর্থ  অর্থ সম্পাদক ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের কাছে রয়েছে। সাধারন সমস্যদের সাথে সমিতির ক্যাশিয়ারেরঝামেলা হয়েছে। আর আজকের গোন্ডগোল অর্থের বিষয় নয় এখানে দুটি গ্রুপ আছে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন ও মেয়র ওহাব গ্রুপ। মূলত এই গ্রুপিং থাকার জন্য এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘোটেছে। বিষটি আমরা উপজেলা চেয়ারম্যানকে জানিয়েছে। তিনি বসে সমাধানের কথা বলেছেন।

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের সাধারনসম্পাদক শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন, এখানে কোন গ্রুপিং নেই। সকলেই আমার দলের লোক। সমিতির বিষয়ে একটি ঝামেলা হয়েছে। কাজে ব্যস্ত থাকার জন্য উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য বলেছি। সামাজিক ভাবে বসে বিষটির সমাধান করার জন্য বলা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পাবনা আমিনপুর থানা তদন্তকারী কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোঃ খাইরুল ইসলাম বলেন, বাজার সমিতির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক গ্রæপের মধ্যে সমিতির  অর্থ নিয়ে দন্দ ছিলো। সমিতির সাধারন সদস্যরা সভাপতির অনুমতি ছাড়া সভা আহবান করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংষর্ষের  ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়া মাত্রই আমি নিজে ফোর্স নিয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছি। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। উভয় পক্ষের বেশ কয়েক জন আহত হয়েছে। আহতদের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত কোন অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। আহত উভয় পক্ষ আমাদের কাছে ফোন করেছিলো। তাদের লিখিত অভিযোগের পরে ঘটনার সাথে সম্পৃক্তদের আইনের আওতায় নিয়ে  আসা হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *