সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

খুলনা সংবাদদাতা: বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকায় গণভবন থেকে বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাগেরহাটে জলদস্যুদের একটি আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে সরকারপ্রধান এ ঘোষণা দেন। সুন্দরবনের ছয় দস্যুবাহিনীর ৫৪ জন সদস্য এদিন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার জানিয়ে বাগেরহাটের শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়ামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনকে আমি দস্যুমুক্ত ঘোষণা করছি। দীর্ঘদিন ওই অঞ্চল জলদস্যু বা বনদস্যুদের অত্যাচারে নির্যাতিত ছিল। বিশেষ করে পুরো দক্ষিণাঞ্চল জুড়েই এটা একটা বিরাট সমস্যা ছিল। সাতক্ষীরা থেকে শুরু করে বাগেরহাট হয়ে বরগুনা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, হাতিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বনদস্যুদের বিরাট প্রভাব ছিল। আমরা তাদেরকে মোটিভেট করেছি, তাদের আশ্বস্ত করেছি যে তারা যদি সারেন্ডার করে আমরা তাদের জীবন জীবিকার পথ করে দেব। তারা পর্যায়ক্রমে একে একে আমাদের কাছে সারেন্ডার করেছে। এদিন আত্মসমর্পণ করা ৫৪ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে এক লাখ করে অর্থ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তাদের পুন 

র্বাসনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, তারা যে যে কাজ করে খেতে চান নিজের গ্রামে বসে, সেই কাজ করার মত উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। ফলে অনেকেই এখন সেই জঙ্গলের দস্যুতা, ওই অস্বাভাবিক জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন, নিজের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। বাংলাদেশে সুন্দরবনের প্রায় ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার বনাঞ্চলের পাশাপাশি দেশের উপকূলীয় এলাকাগুলো ঘিরে জলদস্যুতার ইতিহাস অনেক পুরনো। জেলেদের ট্রলার ছিনতাই করে মাঝিদের আটক রেখে মুক্তিপণ আদায়, বিভিন্ন পেশার বনজীবীদের অপাহরণ ও ডাকাতির মাধ্যমে বিভিন্ন দস্যু দল উপকূলীয় জেলাগুলোতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। উপকূলীয় এলাকায় এই দস্যুতা দমনের জন্য সরকার ২০১২ সালে র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও বন বিভাগকে নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে দেয়। এরপর র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২২৩টি অভিযানে অন্তত ১৩৫ জন সন্দেহভাজন জলদস্যু ও বনদস্যু নিহত হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছে পাঁচ শতাধিক লোক। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৬টি দস্যু দলের ২৭৪ জন আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। দস্যুতা ত্যাগ করে আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে, ভিডিও কনফারেন্সে তাদের ধন্যবাদ দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় শান্তি ফেরানোর চেষ্টার জন্য র‌্যাব, পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *