সড়কটিতে পায়ে হাঁটার অবস্থাও নেই

পিপ (পাবনা) : পাবনার বেড়া পৌর এলাকার প্রাণকেন্দ্র ধানিয়াপট্টি থেকে দক্ষিণ দিকে মৈত্রবাঁধা মহল্লার দিকে চলে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি। এক সময় এই সড়কে রিকশা, ভ্যানসহ ট্রাকও চলাচল করত। কিন্তু বছর দুয়েক হলো এই সড়কে কোনো ধরনের যান চলা তো দূরের কথা পায়ে হাঁটার অবস্থাও নেই। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হওয়ায় সড়কটির ধানিয়াপট্টি মোড় থেকে তরমুজহাট পর্যন্ত প্রায় ২০০ ফুট অংশ ভেঙেচুরে সৃষ্টি হয়েছে পুকুরের মতো বড় গর্ত। পুরো বর্ষা মৌসুম জুড়ে সেখানে জমে থাকে নোংরা পানি। বর্ষা মৌসুমের পরে সেখান দিয়ে পায়ে হাঁটা গেলেও যানবাহন চলাচল করতে পারে না। মাত্র ২০০ ফুট অংশের এমন দুরবস্থার কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে রয়েছে সড়কটি।
পৌরবাসী জানায়, প্রায় ২০ বছর আগে নির্মিত হয় সড়কটি। পৌর এলাকার ধানিয়াপট্টি মোড় থেকে মৈত্রবাঁধা মহল্লা হয়ে কানাইবাড়ী মোড় পর্যন্ত এই সড়কটি বেড়া শহরের বিকল্প সড়ক হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। বেড়া শহরের ভেতরের সড়ক দিয়ে পৌর এলাকার বাইরে যাতায়াতের সময় প্রায়ই দেখা দেয় তীব্র যানজট। অথচ ধানিয়াপট্টি মোড় থেকে কানাইবাড়ী মোড় পর্যন্ত বিকল্প সড়কটি ব্যবহারের পর কমে যায় সেই যানজট। বছর দিুয়েক ধরে বিকল্প সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এখন আবারও শহরের ভেতরের সড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। এতে আবারও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে ওই সড়কটিই ছিল পৌর এলাকার মৈত্রবাঁধা ও বনগ্রাম মহল্লার বাসিন্দাদের যাতায়াতের সহজ পথ। এখন সড়কটি ব্যবহার না করতে পারায় বাসিন্দাদের দেড় কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। মহল্লার বাসিন্দারা জানান, মৈত্রবাঁধা ও বনগ্রামের কেউ মারা গেলে ধানিয়াপট্টি মসজিদের সামনে মৃত ব্যক্তির জানাজা হয়ে থাকে। এখনও সেখানেই জানাজা হয়, তবে খাটিয়ায় মৃতদেহ নিয়ে এক থেকে দেড় কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়।
গতকাল (শুক্রবার, ০৩ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধানিয়াপট্টি মোড় থেকে মৈত্রবাঁধা মহল্লার দিকে কিছুটা যেতেই শুরু হয়েছে সড়কটির দুরবস্থা। সড়কের প্রায় ২০০ ফুট অংশ জুড়ে গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সেখানে জমে আছে নোংরা পানি। সেই পানিতে কিলবিল করছে মশার লার্ভা। নোংরা পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয় বলে সচরাচর সেখান দিয়ে কেউ পায়ে হেঁটেও যাতায়াত করেন না। আর রিকশা, ভ্যানসহ কোনো ধরনের যানবাহনের চলাচলের তো প্রশ্নই ওঠে না।
সড়কের বিপর্যস্ত অংশের পাশেই রয়েছে মো. মিল্টনের একটি মনোহারি দোকান। তিনি বলেন, ‘বছর দুয়েক ধরে সড়কটি এমন বিপর্যস্ত হয়ে থাকলেও এবার এর অবস্থা সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। এখান দিয়ে যানবাহন ও লোকজন যাতায়াত করতে না পারায় দোকানের বেচাকেনা একেবারেই কমে গেছে।’
মৈত্রবাঁধা মহল্লার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কের এমন দুরবস্থার কারণে এলাকার শত শত মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই সড়ক দিয়েই মসজিদে, বাজারে, স্কুল-কলেজে যেতে হয়। মাত্র দু মিনিটের পথ, অথচ মাত্র ২০০ ফুট বেহাল অংশের জন্য আমাদের দেড় কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে।’
পৌর এলাকার হাতিগাড়া মহল্লার রিকশাচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারের ভিতরের যানজট এড়ানোর জন্যে আগে এই সড়ক দিয়্যা আমরা উপজেলা অফিস, বেড়া বাসস্ট্যান্ডে যাতায়াত করত্যাম। এখন হাঁটার উপায়ও নাই।’
বেড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌলী ফিরোজুল আলম বলেন, ‘এই সড়কটির সংস্কার কাজের টেন্ডার হয়ে ঠিকাদার পর্যন্ত নিয়োগ হয়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুম ও বৃষ্টির কারণে কাজটি বিলম্বিত হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব কাজটি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *