১৭ জানুয়ারি মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের ৬ষ্ঠ প্রয়াণ দিবস ; গড়ে উঠেনি পূর্নাঙ্গ স্মৃতি সংগ্রহশালা

বিশেষ প্রতিবেদক :  বাংলা সিনেমার কিংবদন্তী নায়িকা পাবনার মেয়ে সুচিত্রা সেন। ১৭ জানুয়ারি সেই মহানায়িকার প্রয়াণ দিবস। ২০১৪ সালের এই দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। স্বল্প পরিসরে সুচিত্রা সেনের স্মৃতি বিজরিত পাবনার পৈত্রিক বাড়িটি স্মৃতি সংগ্রহশালা’ গড়ে তুলে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হলেও এতে খুশি হতে পারছে না জেলার সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সুধীজনেরা। তাদের দাবি, বাড়িতে গড়ে তুলতে হবে পূর্নাঙ্গ সংগ্রহশালা। এদিকে ১৭ জানুয়ারি (শুক্রবার) প্রয়াণ দিবস পালনে সুচিত্রা সেনের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, স্মরণ পদযাত্রা, আলোচনা সভা নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে পাবনা জেলা প্রশাসন, সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষন পরিষদ সহ বিভিন্ন সংগঠন।

বাংলা সিনেমার মহানায়িকা পাবনার মেয়ে সুচিত্রা সেন। যার অনবদ্য অভিনয় আজো দাগ কেটে আছে কোটি দর্শকের হৃদয়ে। অভিনয় গুণে যিনি হয়ে উঠেছিলেন দুই বাংলার চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষের মহানায়িকা। সুচিত্রা সেনের শৈশব কৈশরের একটি অংশ কেটেছে পাবনা শহরের গোপালপুর মহল্লার হেমসাগর লেনের এই পৈত্রিক বাড়িতে।

যে বাড়ির প্রতি কোনায় ছড়িয়ে রয়েছে সুচিত্রা সেনের ছুটোছুটির দিনগুলো। দেশ ভাগের আগে সুচিত্রা সেনের বাবা করুনাময় দাসগুপ্ত স্ব-পরিবারে কলকাতায় চলে যান। এর র্দীঘ কয়েক বছর পর ইমাম গাযযালী ট্রাষ্ট বাড়িটি লিজ নিয়ে ইমাম গাযযালী ইনষ্টিটিউট গড়ে তোলে।

২০০৯ সালে বাড়িটির লীজ বাতিল করে সেখানে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা বা ফিল্ম ইন্সটিটিউট করার দাবিতে আন্দোলনে নামে পাবনার সাংস্কৃতিক কর্মীরা। সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১৪ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশে বাড়িটি সরকারের দখলে নেয় জেলা প্রশাসন। এরপর বাড়িটিতে ‘স্বল্প পরিসরে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা’ গড়ে তুলে ১০ টাকার বিনিময়ে বাড়িটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। সংগ্রহশালাই ঘুরতে এসে যেমন আবেগ আপ্রতুল হয়ে পড়ছেন অনেকে তেমনি র্দীঘদিনেও সংগ্রহশালায় কিছু ছবি ছাড়া আর কিছুই দেখতে না পেয়ে হতাশা ও ক্ষোভ দর্শনার্থীদের মাঝে।

পাবনা ড্রামা সার্কেলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল বলেন, সুচিত্রা সেনের বাড়ি জরাজীর্ণ অবস্থা পড়ে আছে। এখানে একটি আর্কাইভ করার কথা ছিলো কিন্তু এখনো দেখেনি, এজন্য আমরা হতাশ। আমাদের দাবী সরকার যেন খুব দ্রুত সংগ্রহশালা বাস্তবায়ন করেন।

সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের নেতা জানান, সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে তারা যোগাযোগ করেছেন। সুচিত্রা সেনের বাড়ি হয়ে উঠবে উত্তরবঙ্গের গবেষণা কেন্দ্র। আর জেলা প্রশাসন জানায়, সংগ্রহশালাটিকে পূর্নাঙ্গ রুপ দিতে জমি অধিগ্রহণসহ দু’টি প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরুর আশা তাদের।

এ বিষয়ে পাবনা সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সাধারন সম্পাদক নরেশ মধ বলেন, বাড়িড়টির পাশের জায়গা অধিগ্রহনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি বাজেট প্রনোয়ন করা হয়েছে, সেই বাজেটটি প্রায়ই শেষের দিকে যদি সেটি পাশ হয়ে যায় তাহলে জায়গাটি অধিগ্রহন করা হবে। অঅরেকটি প্রকল্প রয়েছে সেটি হচ্ছে একটি বিশাল ভবন করা, সেই ভবনে একটি কনফারেন্স রুম, নাট্য বিভাগসহ বিভিন্ন খোলার কথা আছে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যায়ে প্রকল্প। এই দুটি যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে বলতে পারি আন্তজাতিক চলচিত্র উৎসবের মত জায়গা এখানে তৈরি করা যাবে। আমরা চাই পাবনাতেই আন্তজাতিক চলচিত্র উৎসব আমরাই করব।

পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ বলেন, সুচিত্রা সেন সংগ্রহশালাকে আমরা একটি সাংস্কৃতিক রুপান্তরিত করতে চাই। সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের আন্ডারে আমরা ইতোমধ্যে সংগ্রহশালার সংলগ্ন ২৫ শতক জায়গা জমি অধিগ্রহনের জন্য প্রস্তাব চলমান রয়েছে। সেখানে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যায়ের বিষয় রয়েছে। জমিটা পেলে পরে আমরা সুচিত্রা সেন সাংস্কৃতি কেন্দ্র করার জন্য আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করি পাবনা বাসীর যে প্রাণের দাবী সে বিষয়ে আমরা একাত্ব আছি সে বিষয়ে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *