চাটমোহরে এক শিক্ষক দিয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান

নিজস্ব  প্রতিবেদক : পাবনার চাটমোহর উপজেলার ধানবিলা ফয়েজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ে আছে পাঁচকক্ষ বিশিষ্ট সুরম্য দ্বিতল ভবন। শিশু শ্রেণীর জন্য আছে সুসজ্জিত ও দর্শনীয় শ্রেণীকক্ষ। দেয়ালে দেয়ালে লেখা আছে মনিষীদের উক্তি। কিন্তু সবকিছু থাকার পরেও বিদ্যালয়টিতে নেই শিক্ষার পরিবেশ! কারণ একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। এতে পাঠদান এবং দাপ্তরিক কাজ করতে গিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে প্রধান শিক্ষক সেলিনা আখতারকে। এতে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। স্কুলের এমন নাজুক শিক্ষার পরিবেশ দেখে এবং শিক্ষা অফিস সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা দেখে স্তম্ভিত অভিভাবকরা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য ২০১৭ সালে ওই গ্রামের সন্তান সাবেক ব্যাংকার আবু সালেহ মো. মাজেদ এক বিঘা জমি দান করেন। এরপর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থায়নে বিদ্যালয় বিহীন এলাকা প্রকল্প থেকে দুইতলা বিশিষ্ট একটি নতুন দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয় সেখানে। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ পদ আছে মোট ৫টি। আর শিশু শ্রেণীর পদ সৃষ্টিই হয়নি। স্কুলের কার্যক্রম শুরুর পর অন্য স্কুল থেকে পারভীন খাতুন এবং লুৎফর রহমান নামে দুই জন সহকারী শিক্ষককে ডেপুটেশনের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয় সেখানে। কিন্তু লুৎফর রহমান হটাৎ করেই স্ব-কর্মস্থলে ফিরে যান।

আর পারভীন খাতুন রয়েছে ডিপিএড প্রশিক্ষণে। এরপর কাকলী খাতুন নামে অপর এক সহকারী শিক্ষককে ডেপুটেশনে পাঠানো হলেও তিনি বর্তমানে পিটিআই ট্রেনিংয়ে রয়েছেন। স্কুলটিতে শিশু শ্রেণী থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে ১২১ জন। এখন এই শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রধান শিক্ষক সেলিনা আখতার একাই পাঠদান দিয়ে যাচ্ছেন। একটি ক্লাসে ওই প্রধান শিক্ষক গেলে আরেকটি ক্লাস ফাঁকা পড়ে থাকছে। শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পাঠগ্রহণ করতে পারছে না। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেক অভিভাবক অন্য স্কুলে ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করেছেন।

ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, স্যার আমাদের পড়া দিয়ে আবার অন্য ক্লাসে চলে যায়। ভালোভাবে আদায় করার আগেই ক্লাসের সময় চলে যায়। স্যার কম থাকায় অনেক ছাত্র অন্য বিদ্যালয়ে চলেও গেছে। রুবিয়া খাতুন নামে এক অভিভাবক যুগান্তরকে জানান, সত্যিই বিদ্যালয়টিতে কোনো শিক্ষার পরিবেশ নেই। একজন শিক্ষক দিয়ে কীভাবে বিদ্যালয়টি চলছে কখনও কেউ জানতেও আসেন না। কিন্তু এভাবে আর কতোদিন চলবে?

প্রধান শিক্ষক সেলিনা আখতার জানান, এক ক্লাসে পড়তে ও লিখতে দিয়ে অন্য ক্লাসে যাই, আবার সে ক্লাসে আসি। এতে পরিপূর্ণ পাঠদান কোনোভাবেই সম্ভব নয়। পরীক্ষার সময় আরো বিপদ বাড়বে। সবকিছু একজনের পক্ষে সামাল দেয়া খুবই কষ্টকর বলে জানান তিনি। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবু সালেহ মো. মাজেদ জানান, একজন শিক্ষক দিয়ে একটি বিদ্যালয় কীভাবে চলে এটা বোধগম্য না। এ ব্যাপারে শিক্ষা অফিসারকে বারবার বলার পরেও কোনো ফল মেলেনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ওই স্কুলে তিনজন শিক্ষকের পদ শূন্য দেখিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু উপজেলায় নতুন নিয়োগ হওয়ার পরেও ওই স্কুলে কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় নি। তবে শিগগিরই ডেপুটেশনের মাধ্যমে অন্তত একজন শিক্ষককে সেখানে নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘এখনও একজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে? এটা কীভাবে সম্ভব? আমি বিষয়টি দেখছি।’

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *